Aaj India Desk, নয়া দিল্লি : ২৬ দিন টানা অনশন করার পর বৃহস্পতিবার হাসপাতালেই অনশন ভেঙেছিলেন সমাজকর্মী এবং পরিবেশবিদ সোনম ওয়াংচুক। তারপরেই তাঁর দিকে ধেয়ে আসে সমালোচনা ও বিদ্রুপের ঝড়। এবার সেই সমালোচনার কড়া জবাব দিলেন তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে অ্যাংমো (Gitanjali J Angmo)। সামাজিক মাধ্যমে করা এক পোস্টে তিনি সমালোচকদের উদ্দেশ্যে ক্ষোভ উগরে স্পষ্ট বলেন, দীর্ঘ অনশন ও শারীরিক ত্যাগের মূল্য না বুঝে সমালোচনা করার আগে অন্তত মানুষের মানবিকতা বোধ থাকা উচিত।
কী লিখলেন গীতাঞ্জলি?
সামাজিক মাধ্যমে গীতাঞ্জলি জে অ্যাংমো (Gitanjali J Angmo) লেখেন, ২৬ দিন ধরে বৃহত্তর স্বার্থে অনশন করার মতো নৈতিক অবস্থান অর্জন না করে সোনম ওয়াংচুকের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করা উচিত নয়। তাঁর বক্তব্য, ওয়াংচুক ১১ কেজি ওজন হারিয়েছেন, যার মধ্যে পেশির ভরও কমেছে। তাই রাজনৈতিক বিশ্লেষণ বা প্রত্যাশার বোঝা চাপানোর আগে অন্তত একদিন তাঁকে সহানুভূতি দেখানোর আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরও লেখেন, “নিঃস্বার্থভাবে মানুষের জন্য কাজ করা একটি জীবনের বিচার করার নৈতিক অধিকার সবাই অর্জন করেন না। দয়া করে মানুষ হোন।”
গীতাঞ্জলির পোস্ট : https://x.com/i/status/2080669408591298988
কেনো অনশন ভাঙেন সোনম ?
কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আশ্বাস পাওয়ার ভিত্তিতেই নিজের অনশন ভাঙতে রাজি হয়েছিলেন সোনম ওয়াংচুক। ২৩ জুলাই গভীর রাতে হাসপাতালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা, জিতেন্দ্র সিং এবং লেহ-লাদাখ অ্যাপেক্স বডির প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে তিনি অনশন প্রত্যাহার করেন। এর আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৬৫ জন সাংসদের অনুরোধও তাঁর সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে। ওয়াংচুক জানান, সম্ভাব্য সহিংসতা এড়ানো, নিজের শারীরিক অবস্থার অবনতি এবং আলোচনার পথ খোলা রাখার স্বার্থেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অন্যদিকে সিজেপির প্রতিনিধিরাও তাঁর অনশন ভাঙার সিদ্ধান্তে খুশি প্রকাশ করেছিলেন।
তবে অনশন প্রত্যাহারের পর সামাজিক মাধ্যমের একাংশ এবং রাজনৈতিক মহলে তাঁর সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভিন্ন ধরনের কুমন্তব্য ও আলোচনা শুরু হয়। সেই প্রেক্ষিতেই প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানান গীতাঞ্জলি জে অ্যাংমো (Gitanjali J Angmo)। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘ অনশনের পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকা একজন মানুষকে নিয়ে তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক মূল্যায়নের বদলে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিই বেশি প্রয়োজন।


