Aaj India Desk, কলকাতা: কলকাতার রাজপথে (Kolkata Rally) অনেক দিন পর দেখা গেল এমন এক ছাত্রমিছিল , যেখানে শুধু স্লোগান নয়— হাসি, খোঁচা, মিম (Meme) আর ব্যঙ্গেই জমে উঠল গোটা প্রতিবাদ। নিট প্রশ্নফাঁসের (NEET Paper Leak) অভিযোগ ঘিরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের (Dharmendra Pradhan) পদত্যাগের দাবিতে শুক্রবার শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী হাঁটলেন। তবে এই মিছিলে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ল তাঁদের হাতে থাকা মজার সব পোস্টার আর অভিনব স্লোগান।
দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র আন্দোলনের রেশ এবার স্পষ্টভাবে এসে পৌঁছল কলকাতাতেও। এদিন সিজেপি আলাদা করে মিছিলের অনুমতি চাইলেও পুলিশ সেই অনুমতি দেয়নি। কিন্তু তাতেই দমে যাওয়ার পাত্র নন আন্দোলনকারীরা। আটটি বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের ডাকা ‘রাত জাগো, দেশ জাগো’ কর্মসূচির সঙ্গে হাত মিলিয়ে তারাও নেমে পড়েন রাস্তায়।
বিকেল গড়াতেই শিয়ালদহ স্টেশন চত্বর লাল পতাকা, ব্যানার আর প্ল্যাকার্ডে ভরে ওঠে। মিছিল যত এগোতে থাকে, ততই সাধারণ পরীক্ষার্থী, কলেজ পড়ুয়া আর যুবক-যুবতীরা তাতে যোগ দেন। কেউ স্লোগান দিচ্ছেন, কেউ মোবাইলে ভিডিও করছেন, আবার কেউ এমন সব পোস্টার বানিয়ে এনেছেন, যা দেখে হাসি চেপে রাখা দায়।
সবচেয়ে বেশি ভিড় জমে ছিল সেই সব প্ল্যাকার্ডের সামনে, যেগুলোতে রাজনীতির সঙ্গে মিশে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার ভাষা, মিম কালচার আর জেন-জি-র রসবোধ। কারও মুখে স্পাইডারম্যানের মুখোশ, তো কারও হাতে এমন পোস্টার, যা দেখেই অনেকে ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।
একটি পোস্টারে লেখা ছিল, “আরে জলদি ইস্তফা দিন, কাল আবার অফিস যেতে হবে!”
আরেকটি প্ল্যাকার্ডে খোঁচা দিয়ে লেখা, “ধর্মেন্দ্রজি, তাড়াতাড়ি রিজাইন করুন, আপনার জন্য আমার সোশ্যাল মিডিয়া ফিডটাই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে!”
প্রধানমন্ত্রীর ‘বিশ্বগুরু’ মন্তব্যকেও ছাড়েননি আন্দোলনকারীরা। বড় বড় অক্ষরে লেখা ছিল, “বিশ্বগুরুর তকমা পরে কী হবে, আগে পরীক্ষাটা ঠিকঠাক হোক!”
জনপ্রিয় হেলথ ড্রিঙ্কের বিজ্ঞাপনের বিখ্যাত লাইন বদলে এক পোস্টারে লেখা হয়, “ঝুট ইজ দ্য সিক্রেট অফ মাই এনার্জি!” আরেকটিতে আবার চায়ের প্রসঙ্গ টেনে ব্যঙ্গ, “যে মজা দেশ বেচে, সেই মজা চা বেচে নেই!”
শিক্ষামন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে সবচেয়ে ভাইরাল পোস্টারগুলোর একটি ছিল প্রেমিক-প্রেমিকার অভিমানের ঢঙে লেখা, “কুচু পুচু… প্লিজ রিজাইন করে দাও!” অনেকে আবার সেই পোস্টারের সামনে দাঁড়িয়ে সেলফিও তুলেছেন।
প্রসাধনীর বিজ্ঞাপনের স্টাইলেও ছিল মজার খোঁচা। সেখানে লেখা, “ফাইভ প্রবলেমস… ওয়ান সলিউশন… ইস্তফা!”
আরও একটি পোস্টারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও ধর্মেন্দ্র প্রধানের একটি ছবি ব্যবহার করে নিচে লেখা হয়েছিল, “ঝালমুড়ি খা আর মজা কর, কুটু আমি আছি তো!” ছবিটি ঘিরেও কম হাসাহাসি হয়নি।
পুলিশের ভূমিকা নিয়েও ব্যঙ্গ করতে ছাড়েননি ছাত্ররা। মিছিলে বারবার শোনা যায়, “যব যব মোদী ডরতা হ্যায়, পুলিশ কো আগে করতা হ্যায়!”— এই স্লোগান।
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, বিষয়টি শুধু একটি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নয়। এটি দেশের লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি বড় প্রশ্ন। তাই শুধু স্লোগান নয়, হাস্যরস, মিম আর ব্যঙ্গকে হাতিয়ার করেই তাঁরা প্রতিবাদকে আরও মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চাইছেন।
শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত এই দীর্ঘ মিছিল যেন একদিকে ছিল প্রতিবাদের মঞ্চ, অন্যদিকে যেন চলন্ত মিম-ফেস্ট! কেউ স্লোগান দিচ্ছেন, কেউ পোস্টার পড়ে হেসে কুটোপাটি খাচ্ছেন, আবার সেই হাসির মাঝেই উঠে আসছে পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফেরানোর জোরালো দাবি। আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট বার্তা, নিট পরীক্ষা নিয়ে পূর্ণ স্বচ্ছতা না ফিরলে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে এই প্রতিবাদ থামবে না। বরং আগামী দিনে আরও নতুন নতুন ব্যঙ্গ, আরও মজার পোস্টার আর আরও বড় ছাত্রসমাবেশ নিয়ে আন্দোলন চলবে।


