Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের (NEET Paper Leak) অভিযোগ ঘিরে যখন দেশজুড়ে বিক্ষোভ, প্রতিবাদ এবং রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে, সেই সময়ই বিতর্ক উসকে দিলেন বিজেপি (BJP) সাংসদ নিশিকান্ত দুবে (Nishikant Dubey)। বৃহস্পতিবার সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি দাবি করেন, সব পরীক্ষার্থী প্রশ্ন ফাঁসের শিকার নন। তাঁর অভিযোগ, অনেকেই পরীক্ষায় প্রত্যাশিত ফল করতে না পেরে নিজের ব্যর্থতা আড়াল করার জন্য ‘প্রশ্ন ফাঁস’-এর যুক্তি সামনে আনছেন। একইসঙ্গে ডাক্তারি, ইঞ্জিনিয়ারিং বা সিভিল সার্ভিসের প্রস্তুতি নেওয়া পড়ুয়াদের আন্দোলনের বদলে পড়াশোনায় মন দেওয়ারও পরামর্শ দেন তিনি।
সংসদ ভবন চত্বরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে গোড্ডার বিজেপি সাংসদ বলেন, “মোদী সরকার নিট কাণ্ডে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে পুরোপুরি দায়বদ্ধ। কিন্তু বিরোধী ও বিক্ষোভকারীদের অবস্থান সমস্যার সমাধান নয়।” এরপর পরীক্ষার্থীদের প্রসঙ্গ তুলে নিশিকান্ত দুবে বলেন, “দেশে ডাক্তারি আসন মাত্র ৬৫ হাজারের মত, অথচ প্রতি বছর পরীক্ষা দেন প্রায় ২২ লক্ষ পরীক্ষার্থী। প্রত্যেক মা-বাবাই ভাবেন তাঁদের সন্তান মেধাবী। আর অনেক পরীক্ষার্থী নিজের যোগ্যতা প্রমাণে ব্যর্থ হয়ে বাবা-মাকে বোঝাচ্ছে, প্রশ্ন ফাঁস হয়েছিল বলেই তারা নাকি সুযোগ পায়নি! নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে এই প্রশ্ন ফাঁসকে তারা হাতিয়ার করেছে।”
যন্তর-মন্তরে বিরোধীদের আন্দোলনে পড়ুয়াদের অংশগ্রহণ নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, “যন্তর-মন্তর বা রাজনৈতিক মিছিলে গিয়ে ভিড় বাড়ানো পড়ুয়াদের কাজ নয়। মা-বাবাদের উচিত সন্তানদের এই ধরনের রাজনৈতিক ফাঁদে পা দিতে না দিয়ে আবার নতুন করে প্রস্তুতি নিতে উৎসাহিত করা। সিভিল সার্ভিস বা ডাক্তারিতে সুযোগ পেতে গেলে আন্দোলনের জায়গায় পড়ার টেবিলেই সময় দেওয়া জরুরি।”
নিট দুর্নীতির ঘটনায় কেন্দ্রের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে নিশিকান্ত দুবে জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইতিমধ্যেই বিজেপি সাংসদদের আশ্বস্ত করেছেন যে সরকার এই বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিতে বদ্ধপরিকর। তাঁর কথায়, “গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে আয়োজিত বৈঠকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ধৃত ১৩ জন মূল অভিযুক্তের জন্য দেশের সেরা আইনজীবীদের আইনি লড়াইয়ে নামানো হবে। যাতে কারোর রেহাই না মেলে। পাশাপাশি ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠন করে দ্রুততম সময়ে অপরাধীদের কঠিনতম শাস্তি নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।”
সংসদে বিরোধীদের লাগাতার বিক্ষোভ ও অধিবেশন বারবার মুলতুবি হওয়া নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিজেপি সাংসদ। তাঁর দাবি, বিরোধীরা যদি আলোচনার সুযোগ দেয়, তাহলে সরকার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অপরাধ রুখতে আরও কঠোর আইন আনতে প্রস্তুত।
এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যেমন নির্ভয়া কাণ্ডের পর দেশে নারীদের সুরক্ষায় অত্যন্ত কড়া আইন আনা হয়েছিল, তেমনই বিরোধীরা সংসদে আলোচনা হতে দিলে প্রশ্ন ফাঁসের মতো অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, অপরাধীদের সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা, এমনকি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখেও নতুন আইন পাশ করানো সম্ভব। কিন্তু তার জন্য সংসদ চলতে দিতে হবে।”
সব মিলিয়ে, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় একদিকে কেন্দ্রের কঠোর অবস্থানের বার্তা তুলে ধরেছেন নিশিকান্ত দুবে, অন্যদিকে আন্দোলনে সামিল হওয়া পড়ুয়াদের উদ্দেশে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি বিরোধীদের ভূমিকা নিয়েও সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে সংসদে এই ইস্যুতে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন তিনি।


