Aaj India Desk, কলকাতা: রাজ্যে জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র (Birth and Death Certificate) ইস্যু করার ব্যবস্থায় বড় প্রশাসনিক পরিবর্তনের ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সরকারি পরিষেবা আরও স্বচ্ছ, দ্রুত এবং সাধারণ মানুষের কাছে সহজ করে তুলতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে পঞ্চায়েত প্রধান, পুরসভার চেয়ারম্যান বা এক্সিকিউটিভ অফিসারদের হাতে আর জন্ম ও মৃত্যুর রেজিস্টার সংক্রান্ত দায়িত্ব থাকবে না।
নতুন ব্যবস্থায় প্রতিটি জেলার জেলাশাসক ও কালেক্টর (DM & Collector)-কে ওই জেলার জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র সংক্রান্ত ডিস্ট্রিক্ট রেজিস্টার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হবে। এর ফলে জেলা স্তরে পুরো প্রক্রিয়ার ওপর প্রশাসনের সরাসরি নজরদারি থাকবে এবং তথ্য সংরক্ষণ ও যাচাইয়ের কাজ আরও সুষ্ঠুভাবে করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে রাজ্য সরকার।
সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জন্ম ও মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত করার ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এবার থেকে ব্লক মেডিক্যাল অফিসার অব হেলথ (BMOH), গ্রামীণ হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট এবং মেডিক্যাল কলেজের প্রধানরা তাঁদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে হওয়া সব জন্ম ও মৃত্যুর ঘটনার রেজিস্ট্রার হিসেবে কাজ করবেন। ফলে স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের তথ্য নথিভুক্তির দায়িত্বও আরও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পরিচালিত হবে।
এই সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। কারণ, শনিবার রাজ্য বিধানসভায় এমন একটি বিল আনা হচ্ছে, যেখানে পঞ্চায়েত প্রধানদের আর্থিক ক্ষমতা কমিয়ে প্রশাসনিক আধিকারিকদের হাতে সেই দায়িত্ব তুলে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। তার ঠিক আগের দিনই সরকারের এই নির্দেশ স্পষ্ট করে দিল, জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র ইস্যুর ক্ষমতাও আর পঞ্চায়েত প্রধানদের হাতে থাকছে না।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র যাচাই করতে গিয়ে রাজ্য প্রশাসনের হাতে একাধিক ভুয়ো নথির তথ্য উঠে আসে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী কয়েকটি জেলা থেকে জাল শংসাপত্রের সন্ধান পাওয়ার পরই প্রশাসন আরও সতর্ক হয়। এরপর জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র সংক্রান্ত আইনে সংশোধন এনে একাধিক নিয়ম পরিবর্তন করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে জাল নথি তৈরি বা সেগুলির অপব্যবহার রোখা যায়।
এই পদক্ষেপেরই অংশ হিসেবে এখন রাজ্যজুড়ে জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্রের নথি যাচাই এবং তল্লাশি অভিযান চলছে। এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য হল, শংসাপত্র নিবন্ধনের প্রতিটি ধাপ আইন মেনে হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা। তাই শুধু পুরসভা নয়, বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েতেও নথিপত্র পরীক্ষা করা হচ্ছে। কোথাও নিয়ম ভাঙা হয়েছে কি না, কোনও জালিয়াতি বা তথ্য গোপনের ঘটনা ঘটেছে কি না, সেই সব বিষয় খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।


