নয়াদিল্লি: কেন্দ্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার বৈঠকেও অনড় ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। সংগঠনের স্পষ্ট বার্তা, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের (Dharmendra Pradhan) ইস্তফার দাবিতে কোনওরকম আপস হবে না। দিল্লির ভিপি হাউসে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠকের পর সিজেপি নেতৃত্ব দাবি করেছে, তাদের মূল দাবি নিয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে কেন্দ্র শনিবার দুপুর পর্যন্ত সময় চেয়েছে।
প্রায় এক মাস ধরে যন্তর-মন্তরে চলা আন্দোলনের কেন্দ্রে রয়েছে শিক্ষামন্ত্রীর (Dharmendra Pradhan) পদত্যাগের দাবি। গত ২০ জুলাই ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিকে ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার পরও নিজেদের অবস্থান থেকে একচুলও সরেনি সিজেপি (CJP)। সংগঠনের দাবি, প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের নৈতিক দায় নিয়ে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদ ছাড়তেই হবে। সিজেপির সাফ কথা, শনিবারের মধ্যে সন্তোষজনক সিদ্ধান্ত না এলে দেশজুড়ে আন্দোলন আরও তীব্র করা হবে।
প্রসঙ্গত, পূর্ব নির্ধারিত সূচী অনুযায়ী শুক্রবার দিল্লির ভিপি হাউসে ফের আলোচনায় বসে কেন্দ্র ও সিজেপি। প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে চলে দুই পক্ষের আলোচনা। বৈঠকে সিজেপির (CJP) প্রতিনিধিত্ব করেন সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। কেন্দ্রের তরফে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং।
সূত্রের দাবি, প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে এখনও পর্যন্ত কী কী পদক্ষেপ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেই রূপরেখা সিজেপি প্রতিনিধিদের সামনে তুলে ধরে কেন্দ্র। একইসঙ্গে আন্দোলনকারীদের দাবিগুলিও শোনেন দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। জানা গিয়েছে, ধর্মেন্দ্র প্রধানের (Dharmendra Pradhan) ইস্তফার দাবি ছাড়া প্রায় সব বিষয়েই নমনীয় মনোভাব দেখিয়েছে কেন্দ্র।
নিট প্রশ্নফাঁসের জেরে আত্মহত্যা করা পড়ুয়াদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা এবং আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহারের মতো বিষয়েও ইতিবাচক আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। এমনকি আত্মহত্যা করা পড়ুয়াদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়েও সরকার নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে বলে দাবি।
তবে মূল অচলাবস্থা রয়ে গিয়েছে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের (Dharmendra Pradhan) পদত্যাগের দাবিকে ঘিরে। কেন্দ্র স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই বিষয়ে কোনওরকম আপস করা হবে না। অন্যদিকে সিজেপিও (CJP) নিজেদের অবস্থানে অনড়। তাদের সাফ বার্তা, ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা না দিলে আন্দোলন প্রত্যাহারের প্রশ্নই ওঠে না। ফলে দীর্ঘ বৈঠকের পরও সমাধানের রাস্তা আপাতত অধরাই থেকে গেল।


