স্নেহা পাল, কলকাতা: পার্ক স্ট্রিটের একটি নামী রেস্তোরাঁ অলিপাবে (Olypub) মটনের বদলে বিফ পরিবেশনের অভিযোগ ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। কনটেন্ট ক্রিয়েটর সায়ক চক্রবর্তীর করা অভিযোগের ভিত্তিতে ওই রেস্তোরাঁর এক ওয়েটারকে গ্রেফতারও করে পুলিশ। পরে সায়ক বিতর্কিত ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সরিয়ে নিলেও বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে তরজা অব্যাহত। (Controversy)
বিফ পরিবেশনের অভিযোগে সরব
ঘটনার সূত্রপাত সায়ক চক্রবর্তীর একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে। ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, তাঁরা মটন স্টেক অর্ডার করেছিলেন, কিন্তু পরিবেশন করা হয় বিফ স্টেক। সায়কের দাবি, খাবার পরিবেশনের সময় কোন মাংস দেওয়া হচ্ছে তা জানানো হয়নি। তাঁরা সেটিকে মটন ভেবে খান। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বচসা হয়।
ভিডিওতে ওয়েটারকে ক্ষমা চাইতে দেখা গেলেও, বিষয়টি সেখানেই থামেনি। পার্ক স্ট্রিট থানায় অভিযোগ দায়ের হয় এবং পুলিশ সংশ্লিষ্ট ওয়েটারকে গ্রেফতার করে। ঘটনার পর সায়ক ওই ভিডিওটি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে মুছে ফেলেন।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অভিযোগ
এই ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তী এবং রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে সায়কের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁদের মতে, এই ঘটনা সামাজিক বিভাজন এবং অশান্তি উসকে দিতে পারে। পরিচালক সৌরভ পালোধি সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, এই ঘটনায় ওয়েটারের ভবিষ্যৎ এবং চাকরি নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি উপেক্ষিত হচ্ছে। পাশাপাশি জয়রাজ ভট্টাচার্য সহ বেশ কয়েকজন সায়কের বিরুদ্ধে পাল্টা FIR দায়ের করেছেন। এছাড়া সায়কের আগের বেশ কিছু পোস্টেও দেখা গিয়েছে যে তিনি বিফ খেয়েছেন।
আবার অন্যদিকে বিজেপি নেত্রী কেয়া ঘোষ সায়কের পক্ষে সওয়াল করে বলেন, কী খাবেন তা ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অংশ, এবং মটনের বদলে বিফ পরিবেশন করা একটি গুরুতর ভুল।
বর্তমানে পুলিশ পুরো বিষয়টি তদন্ত করছে। রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের ভূমিকা, ওয়েটারের দায় এবং অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।


