Aaj lndia Desk, কলকাতা: এক লাফে জন্ম নথিভুক্তি ১.২ লাখ থেকে ১০.৫ লাখ! ডিজিটাইজেশনের পরই সামনে এল ভুয়ো জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্রের সন্দেহ, রাজ্যজুড়ে শুরু বিশেষ যাচাই অভিযান। বৃহস্পতিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল জানান, জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্রের তথ্য ঠিক আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে জেলা, ব্লক, পুরসভা ও পঞ্চায়েত স্তরে একসঙ্গে যাচাই শুরু হয়েছে। এই কাজে পুলিশ, জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য দফতর, পুরসভা ও পঞ্চায়েত দফতর একযোগে কাজ করবে।
সরকারের নজরে সবচেয়ে বেশি এসেছে সীমান্তের তিন জেলা মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর এবং মালদা। এসআইআর (SIR)-এর তথ্য অনুযায়ী, মুর্শিদাবাদে ২,৪০,৭৫৫টি, উত্তর দিনাজপুরে ১,৫৩,৬৫৮টি এবং মালদায় ১,৪৮,৮৭৭টি নথি নিয়ে বিশেষভাবে তদন্ত হবে। এই তিন জেলার নথি আরও ভালো করে খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
সরকারি তথ্য বলছে, গত কয়েক বছরে জন্ম নথিভুক্তির সংখ্যা হঠাৎ করেই অনেক বেড়েছে। ২০২৩ সালে যেখানে সংখ্যা ছিল ১,২১,৪৫৩, ২০২৪ সালে তা বেড়ে হয় ৩,৮১,৫৯১। ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা এক লাফে ১০,৫০,৪৫১-এ পৌঁছে যায়। আর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্তই ৫,১২,৬৩২টি জন্ম নথিভুক্ত হয়েছে। কেন এত দ্রুত এই সংখ্যা বেড়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এখন পর্যন্ত রাজ্যে মোট ১১ লক্ষ ২৪ হাজার জন্ম ও মৃত্যু সংক্রান্ত নথি ডিজিটাইজ করে পরীক্ষা করা হয়েছে। তার মধ্যে প্রায় ১ লক্ষ ৮০ হাজার নথিতে গরমিল বা সন্দেহজনক তথ্য পাওয়া গেছে। অর্থাৎ, পরীক্ষা করা নথির প্রায় ১৫ থেকে ১৬ শতাংশেই সমস্যা থাকার ইঙ্গিত মিলেছে।
এই কারণে রাজ্যের সব পুরসভা, পুরনিগম ও পঞ্চায়েতের পুরনো জন্ম-মৃত্যুর রেজিস্টার স্ক্যান করে ডিজিটাইজ করা হচ্ছে। কাজ শেষ হলে সেই নথি আবার সংশ্লিষ্ট দফতরে ফিরিয়ে দেওয়া হবে, যাতে সাধারণ মানুষের পরিষেবায় কোনও সমস্যা না হয়।
মুখ্যসচিব জানান, প্রাথমিক যাচাইয়েই কয়েকটি ভুয়ো শংসাপত্র ধরা পড়েছে। কয়েকটি ঘটনায় ইতিমধ্যেই এফআইআর দায়ের হয়েছে। তিনি বলেন, জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্রের ভিত্তিতেই আধার, পাসপোর্ট, রেশন কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি তৈরি হয়। তাই এখন থেকে অন্য সরকারি তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার পরেই শংসাপত্র দেওয়া হবে।
কলকাতাতেও এই অভিযান শুরু হয়েছে। বড়তলা থানার পুলিশ কলকাতা পুরসভার বোরো-২ এলাকায় জন্ম ও মৃত্যু সংক্রান্ত নথি পরীক্ষা করছে। মহিলা পুলিশকর্মীরাও এই অভিযানে অংশ নিয়েছেন।
রাজ্য সরকারের দাবি, আগামী দিনে জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র দেওয়ার নিয়ম আরও কড়া করা হবে। কর্পোরেশন, পুরসভা ও পঞ্চায়েতের জন্য একই ধরনের নির্দেশিকা জারি হবে। পাশাপাশি, সন্দেহজনক নথির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া চলবে।


