Aaj India Desk, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় (West Bengal Assembly) বুধবারের উত্তপ্ত পরিস্থিতির পর বৃহস্পতিবার দেখা গেল একেবারে অন্য ছবি। আগের দিন বিরোধী দলের মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামানকে (Akhruzzaman) বক্তব্য রাখতে বাধা দেওয়ার অভিযোগে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষকে (Kunal Ghosh) মার্শালদের সাহায্যে বিধানসভা কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি দিনের বাকি সময়ের জন্য তাঁকে বিধানসভা থেকেও সাসপেন্ড (Suspend) করা হয়েছিল। তবে সেই ঘটনার পরের দিনই বিধানসভায় আখরুজ্জামানের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় কুণাল ঘোষকে।
সূত্রের খবর, এদিন কুণাল ঘোষ নিজেই আখরুজ্জামানের কাছে গিয়ে কথা বলেন। শুরুতেই তিনি জানিয়ে দেন, ব্যক্তিগতভাবে তাঁর কোনও ক্ষোভ বা বিরূপ মনোভাব নেই। কুণাল বলেন, “আমার আপনার প্রতি কোনও রাগ নেই। আমাকে ভুল বুঝবেন না। কিন্তু আমাকে বলতে দেওয়া হোক।” তাঁর এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, বুধবারের ঘটনাকে তিনি ব্যক্তিগত বিরোধ হিসেবে দেখতে চান না। বরং বিধানসভায় নিজের বক্তব্য রাখার সুযোগ না পাওয়ার বিষয়টিকেই তিনি তুলে ধরতে চেয়েছেন।
কুণালের কথার জবাবে আখরুজ্জামানও হালকা মেজাজে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, “আমার নেতা ববিদা। আমার ওপর রাগ না করে তুমি ববি দাকে বল।” তাঁর এই মন্তব্যে সেখানে উপস্থিতদের মধ্যেও হাসির রোল ওঠে বলে সূত্রের খবর।
বুধবারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই বিধায়কের এই কথোপকথনের সময় তৃণমূলের একাধিক প্রবীণ বিধায়কও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সূত্রের খবর, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, প্রবীণ বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং বিধানসভার প্রাক্তন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ আরও কয়েকজন আখরুজ্জামানের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। তাঁদের উপস্থিতিতেই বুধবারের ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হওয়া অস্বস্তি কাটানোর চেষ্টা হয়েছে বলেই রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।
কুণাল ঘোষের অভিযোগ ছিল, স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের আলোচনায় বক্তব্য রাখার জন্য তাঁর নাম তালিকায় থাকলেও বিরোধী দলের মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামান সেই নাম কেটে দেন। সেই কারণেই তিনি প্রতিবাদ জানান। বিধানসভায় আখরুজ্জামান যখন বক্তব্য রাখতে ওঠেন, ঠিক তখনই কুণাল ঘোষ তাঁর মাইকের সামনে গিয়ে দাঁড়ান এবং বক্তব্যে বাধা দেন।
এরপর কুণাল ঘোষ নিজের আসন ছেড়ে সামনে চলে আসতেই বিধানসভার ভিতরে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়। বিজেপি বিধায়করাও ওয়েলে নেমে এসে তাঁকে বাধা দেন এবং নিজের আসনে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করেন। স্পিকার রথীন্দ্র বোসও বারবার কুণাল ঘোষকে আসনে ফিরে যেতে বলেন। পাশাপাশি সতর্ক করে জানান, নির্দেশ না মানলে তাঁকে বিধানসভা থেকে বের করে দেওয়া হতে পারে, এমনকি সাসপেন্ডও করা হবে। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতির পরিবর্তন না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত মার্শালদের ডেকে কুণাল ঘোষকে টেনে-হিঁচড়ে বিধানসভা কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়।


