স্নেহা পাল, দিল্লি : ওয়াশিংটন থেকে প্রকাশিত এক ‘বিস্তারিত নথি’ (Epstein Document) ঘিরে শুক্রবার রাত থেকে দিল্লিতে বেড়েছে তৎপরতা। যার মধ্যে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারি সফর সংক্রান্ত তথ্য! মার্কিনি নথিতে এই উল্লেখ সামনে আসতেই রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক স্তরে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি
শুক্রবার মার্কিন বিচারবিভাগ জেফ্রি এপস্টেইন সংক্রান্ত বিপুল পরিমাণ নথি প্রকাশ করে। প্রকাশিত ফাইলগুলির মধ্যে রয়েছে বিপুল সংখ্যক ইমেল, ভিডিও ও ছবি। ওই নথিগুলি এমন এক ব্যক্তির সঙ্গে যুক্ত, যার নাম গত কয়েক বছর ধরে যৌন অপরাধ ও মানব পাচারের অভিযোগে বিশ্বজুড়ে বিতর্কিত। তদন্ত সংক্রান্ত স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আইনি বাধ্যবাধকতার আওতায় এই নথি প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
সেখানে থাকা একটি ইমেলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ২০১৭ সালের ইজরায়েল সফরের উল্লেখ পাওয়া যায়। ওই ইমেলে দাবি করা হয়েছে, সফরটি মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বার্থে আয়োজিত হয়েছিল এবং এপস্টেইনের পরামর্শ নেওয়া হয়েছিল।
এই ইমেল ঘিরে বিরোধী শিবির সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। কংগ্রেসের তরফে দাবি করা হয়, বিষয়টি দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির সঙ্গে জড়িত এবং সরকারকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে।
সরকারি সফরের সঙ্গে যোগ অস্বীকার
তবে এই সমস্ত দাবি দ্রুত কঠোরভাবে খারিজ করেছে নয়াদিল্লি। শনিবার বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রীর ইজরায়েল সফর একটি সম্পূর্ণ সরকারি ও কূটনৈতিক সফর ছিল। ওই ইমেলে থাকা অন্যান্য মন্তব্য একজন দণ্ডিত অপরাধীর ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কল্পনা মাত্র।”
বিদেশমন্ত্রকের দাবি, ওই সফরের সঙ্গে কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত স্বার্থ কিংবা বেআইনি কর্মকাণ্ডের কোনও সম্পর্ক নেই। সরকার এই ধরনের দাবি গুরুত্ব দেওয়ার যোগ্য বলে মনে করছে না।


