Aaj India desk, কলকাতা: রাজ্যে দীর্ঘদিন দীর্ঘদিন ধরে স্মার্ট মিটার (smart meter) বসানোর বিপক্ষে আন্দোলন করে চলেছিল বাম সংগঠনগুলি। সাধারণ মিটারের থেকে স্মার্ট মিটারের বিল এমনিতেই বেশি আসে।এর ফলে সাধারণ মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত ও গরিব মানুষ চরম আর্থিক সংকটে পড়বেন। এমনটাই আশঙ্কা ছিল তাদের। অন্যদিকে সরকারে আসার পরে বিজেপি সরকার সমস্ত সরকারি দপ্তরে স্মার্ট মিটার বাধ্যতামূলক করে। ফলে আশঙ্কা ছিল এবার গৃহস্ত ঘরেও স্মার্ট মিটার বসাতে হতে পারে। কিন্তু এবার বিধানসময়ের মুখ্যমন্ত্রী বামেদেরকে তোক দাগলেন।
কি বললেন মুখ্যমন্ত্রী?
মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন সাধারণ মানুষের ওপর জোর করে স্মার্ট মিটার (smart meter) চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। এটি সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক সিদ্ধান্ত। গ্রাহকদের বুঝিয়ে তবেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।তিনি বলেন যে স্মার্ট মিটার নিয়ে মানুষের মনে অনেক ভুল ধারণা তৈরি করা হচ্ছে। এটি মূলত বামপন্থীদের কাজ। ত্রিপুরাতেও বামেরা এর বিরোধিতা করেছিল। কিন্তু সেখানে স্মার্ট মিটার চালুর পর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। বাম ও SUCI-এর আন্দোলনকে তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “মিছিল বন্ধ! মিছিল করার সুযোগ দেব না। একটা কথা শুনলে বামপন্থীদের হাওয়া বেরিয়ে যাবে”। যেহেতু সরকার নিজেই এটি বাধ্যতামূলক করছে না, তাই বিরোধীদের আর আন্দোলন করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।
বিদ্যুৎ নিয়ে আর কি ঘোষণা করলেন ?
স্মার্ট মিটার (smart meter)ছাড়াও বিদ্যুৎ নিয়ে আরো কিছু ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ৩ মাসের পরিবর্তে প্রতি মাসে বিদ্যুতের বিল দেওয়া হবে। এছাড়াও WBPDCL-কে এবার ‘পাবলিক লিস্টেড কোম্পানি’ হিসেবে শেয়ার বাজারে আনার কথা ঘোষণা করেন তিনি। রাজ্যের লাভজনক সরকারি বিদ্যুৎ সংস্থা এটি। এর অনুমোদিত শেয়ার মূল্য ১২,০০০ কোটি টাকা। যার লভ্যাংশ রাজ্যের অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতে ব্যবহার করা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা শুনে বামেদের একাংশ নিজেদের জ্বরে বলেই একে দেখছেন। তবে অন্য অংশের আশঙ্কা আসলে কৌশল করে স্মার্ট মিটার ধীরে ধীরে চাপিয়ে দেওয়া হবে।


