27.3 C
Kolkata
Wednesday, July 22, 2026
spot_img

বিধানসভায় তাণ্ডব! মার্শালের হাতে টেনে বের করা হল কুণাল ঘোষকে!

Aaj India Desk, কলকাতা : বুধবার বাজেট-সংক্রান্ত আলোচনার মাঝেই চোখে পড়ল তুমুল অশান্তির ছবি। বিধানসভার অধিবেশনে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় বা ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ নতুন নয়। কিন্তু একজন বিধায়ককে মার্শাল ডেকে টেনে-হিঁচড়ে কক্ষের বাইরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা কার্যত নজিরবিহীন। স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দপ্তরের বাজেট আলোচনা চলাকালীন এমনই নাটকীয় পরিস্থিতির সাক্ষী থাকল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা।

কীভাবে শুরু হল বিতর্ক?

বিরোধী দলের চিফ হুইপ আখরুজ্জামান বক্তব্য শুরু করার সময় কালীঘাটপন্থী তৃনমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) তাঁর মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়িয়ে বক্তব্যে বাধা দেন। কুণাল ঘোষের অভিযোগ, স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দপ্তরের আলোচনায় তাঁর নাম উল্লেখ থাকলেও বিরোধী দলের চিফ হুইপ সেই অংশ বাদ দিয়েছেন। এর প্রতিবাদ জানাতেই তিনি আসন ছেড়ে সামনে যান।

কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) নিজের আসন ছেড়ে সামনে চলে আসতেই বিধানসভায় হইচই শুরু হয়। বিজেপি বিধায়করাও ওয়েলে নেমে এসে তাঁকে আসনে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। স্পিকার রথীন্দ্র বোসও বারবার কুণাল ঘোষকে নিজের আসনে ফিরে যেতে নির্দেশ দেন। পাশাপাশি, নির্দেশ না মানলে তাঁকে কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া বা প্রয়োজনে সাসপেন্ড করার সতর্কবার্তাও দেন। তাতেও পরিস্থিতির পরিবর্তন না হওয়ায় মার্শালদের মাধ্যমে কুণাল ঘোষকে টেনে কক্ষের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়।

বিধানসভার ঘটনায় তীব্র নিন্দা মুখ্যমন্ত্রীর 

ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রকাশ্যে কুণাল ঘোষের (Kunal Ghosh) আচরণের কড়া সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ইতিহাসে এমন দৃশ্য আগে দেখা যায়নি। তিনি বলেন, “প্রতিবাদ অনেক রকম হতে পারে। কিন্তু এই ধরনের আচরণ বিধানসভায় আগে দেখিনি। আখরুজ্জামান বহুদিনের বিধায়ক ও মন্ত্রী। তাঁর পরিবারের দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক ঐতিহ্য রয়েছে। আজ যেভাবে একজন বিধায়ক তাঁর দিকে শারীরিকভাবে এগিয়ে গিয়েছিলেন, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আমি তার তীব্র নিন্দা করছি। এই ধরনের ঘটনা কোনওভাবেই কাম্য নয়।”

বুধবারের এই ঘটনা শুধু বিধানসভার অশান্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানে মতপ্রকাশের অধিকার এবং সংসদীয় শৃঙ্খলার ভারসাম্য নিয়ে নতুন প্রশ্নও তুলে দিয়েছে। কুণাল ঘোষের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেই নিয়ে প্রতিবাদ কোন পদ্ধতিতে করা হবে, সেটিই শেষ পর্যন্ত বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। ফলে এই ঘটনায় যেমন প্রতিবাদের কারনের বদলে আইনসভার মর্যাদা ও আচরণবিধি রক্ষার প্রশ্নই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন