কলকাতা: রাজ্যে পালাবদলের পর প্রথম একুশে জুলাই। শহরজুড়ে নানান ছবির মাঝে ধরা পর কালীঘাট তৃণমূলের মঞ্চে ‘মহানাটক’! শহীদ স্মরণে বিজেপি-বিদ্রোহীদের বিঁধে ঝাঁঝালো ভাষণ দিচ্ছিলেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। প্রায় সাড়ে ২২ মিনিট একাই বলে যান তিনি। কল্যাণের ভাষণের মাঝেই মঞ্চে আবির্ভূত হন ‘মাননীয়া’। কিছুক্ষণ থেমে ভাষণ চালিয়ে যান কল্যাণ!
দলীয় সূত্রের দাবী, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে বক্তৃতা সংক্ষিপ্ত করার ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন মমতা। কিন্তু সেসব উড়িয়ে দিয়ে আবেগে ভেসে চাঁচাছোলা আক্রমণ শানাতেই থাকেন কল্যাণ। যার জেরে কথা থাকলেও বক্তৃতা করতে পারেননি লোকসভার সাংসদ মহুয়া মৈত্র, কীর্তি আজাদ, রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন, সাগরিকা ঘোষ, রাজীব কুমারেরা, বলে সূত্রের খবর।
এদিকে, মঞ্চ ছেড়েই সোজা সভাস্থল ছেড়ে বেরিয়ে যান শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। এই নিয়েই শুরু হয় জোর জল্পনা। অনেকেই ধারণা করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বাদানুবাদ হতেই সভা ছাড়েন কল্যাণ। কিন্তু আসলে ঠিক কি ঘটেছিল? সব জল্পনায় জল ঢেলে দিয়েছেন কল্যাণ নিজেই। তাঁর (Kalyan Banerjee) দাবি, “রাত জেগেছিলাম, জ্বর এসেছে। তাই শরীর খারাপ লাগছিল। বক্তৃতা শেষ করেই বাড়ি চলে গিয়েছি। নেত্রীর সঙ্গে কোনও বচসা হয়নি। বচসা হলে কি মঞ্চের সামনে দাঁড়িয়ে ওইভাবে বক্তৃতা করতাম?”
প্রসঙ্গত, ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে প্রায় সাড়ে ২২ মিনিটের দীর্ঘ বক্তৃতায় কার্যত তোপ দাগলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী শিবির থেকে বিজেপি, কাউকেই রেয়াত করলেন না শ্রীরামপুরের সাংসদ। কটাক্ষের সুরে তিনি (Kalyan Banerjee) বলেন, “মমতা ছাড়া তৃণমূল, বিরোধী দল বা জনতা, কিছুই হয় না।”
ঋতব্রত শিবিরকে নিশানা করে তাঁর দাবি, “বিজেপির সহায়তায় মঞ্চ হয়েছে, কিন্তু কর্মীরা ওঁদের সঙ্গে নেই।” একইসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীকেও আক্রমণ করে কল্যাণের মন্তব্য, “শুভেন্দু অধিকারীর বি-টিম বিধায়কেরা যতই স্বপ্ন দেখুন, আসলে নিজেরাই নিজেদের বাঁশ আনছেন।” তাঁর এই বিস্ফোরক মন্তব্যে ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়।


