Aaj India Desk, কলকাতা : কলকাতা হাইকোর্টে এবার বড় স্বস্তি পেলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগে রাজ্যের তরফে করা এই মামলাটি সোমবার নিষ্পত্তি করে দেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। একইসঙ্গে আদালত নির্দেশ দেয়, আগামী ৬ অক্টোবর পর্যন্ত অভিষেকের বিরুদ্ধে এই মামলায় কোনও কড়া আইনি পদক্ষেপও নেওয়া যাবে না।
অসহযোগিতার অভিযোগে আদালতের সিদ্ধান্ত
তদন্তে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) যথাযথ সহযোগিতা করছেন না জানিয়ে রাজ্য আদলতের দ্বারস্থ হয়েছিল। তবে আদালতে অভিষেকের আইনজীবীরা জানান, তিনি আদালতের নির্দেশ মেনে তদন্তকারী সংস্থাকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করেছেন। তাঁর আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য ও সব্যসাচী বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে বলেন, বিধাননগর আদালতে ভয়েস স্যাম্পল পরীক্ষার জন্য অভিষেক উপস্থিত ছিলেন এবং তদন্ত প্রক্রিয়ায় যথাযথ সহযোগিতা করেছেন। এই যুক্তি বিবেচনা করেই বিচারপতি অসহযোগিতার অভিযোগ সংক্রান্ত মামলাটি নিষ্পত্তি করেন।
বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি নাকচ
এই শুনানিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ারও আবেদন করা হয় আদালতে। তবে সেই আবেদন খারিজ করে দেয় আদালত। বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, কলকাতায় উন্নত চিকিৎসার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজন হচ্ছে। আদালতের রায় অনুযায়ী, দ্রুত এসএসকেএম হাসপাতালে একটি বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে অভিষেকের চোখ পরীক্ষা করা হবে। সেই বোর্ডের রিপোর্ট জমা পড়ার পর আদালত বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
তবে আদালতের এই পর্যবেক্ষণের তীব্র বিরোধিতা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবীরা। তাঁদের দাবি, একজন রোগীর চিকিৎসা কোথায় এবং কীভাবে হবে, সেই সিদ্ধান্ত মূলত চিকিৎসক ও রোগীর পারস্পরিক পরামর্শের বিষয়। আইনজীবীদের বক্তব্য, আবেদনকারীর স্বাস্থ্য ও চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। তাঁরা আদালতের কাছে আবেদন জানান, চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা এবং চিকিৎসকদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে বিদেশে চিকিৎসার অনুমতির আবেদন বিবেচনা করা হোক। বর্তমানে মেডিক্যাল বোর্ডের রিপোর্টেরই অপেক্ষায় রয়েছে আদালত।


