কলকাতা: একসময় দু-জনেই লাল ঝান্ডা হাতে ধরে ‘সাম্যের গান’ গাইতেন। একজন হলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যজন প্রতীক-উর রহমান (Pratik-ur Rahman)। দু-জনেই পরবর্তীকালে তৃণমূলে যোগ দেয়। ছাব্বিশের নির্বাচনের ঠিক আগে “উন্নয়নের শরিক” হতে চান বলে একসময় ডায়মন্ড হারবারে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দেন প্রতীক।
তাঁর ‘ঋতদা’ অবশ্য অনেক আগেই ‘দিদির’ হাত ধরেছিলেন। আবার পালাবদল হতে আগেই হাত ছেড়েছেন। অন্যদিকে, বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর প্রতীককেও কার্যত জনসমক্ষে খুব একটা দেখা যায়নি। আর তাতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা, তবে কি এবার তৃণমূলও ছাড়তে চলেছেন প্রতীক-উর রহমান (Pratik-ur Rahman)? দীর্ঘদিনের পরিচিত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ শিবিরেই কি হতে চলেছে তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক ঠিকানা? এই সব জল্পনার মাঝেই অবশেষে মুখ খুললেন যুবনেতা।
২০০৮ সালের দিকে সক্রিয়ভাবে সিপিএমের রাজনীতিতে যোগ দেন প্রতীক-উর (Pratik-ur Rahman)। দলের সবচেয়ে কঠিন সময়েই লাল পতাকা হাতে তুলে নিয়েছিলেন তিনি। রাজ্যজুড়ে আন্দোলন, প্রতিবাদ থেকে শুরু করে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ধারালো রাজনৈতিক আক্রমণ, সব ক্ষেত্রেই প্রথম সারির মুখ ছিলেন তিনি। একাধিক নির্বাচনে সিপিএমের প্রার্থী হয়েছেন, জায়গা পেয়েছেন জেলা ও রাজ্য কমিটিতেও।
তবু চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সিপিএম নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে দল ছাড়েন প্রতীক-উর (Pratik-ur Rahman)। এরপরই তৃণমূলে যোগ দিয়ে জানান, উন্নয়নের রাজনীতির সঙ্গী হতেই তাঁর এই সিদ্ধান্ত। রাজনৈতিক মহলে তখন থেকেই জোর চর্চা ছিল, তাঁর এই দলবদলের নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল প্রাক্তন বাম নেতা তথা তৃণমূলের ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের। একসময় দু’জন একই রাজনৈতিক শিবিরে কাজ করতেন, সেই পুরনো সম্পর্কই নাকি নতুন অধ্যায়ের সেতুবন্ধন তৈরি করেছিল।
এবার ভোট-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ফের প্রতীক-উরকে (Pratik-ur Rahman) ঘিরে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। তিনি কি তৃণমূলেই থাকবেন, নাকি রাজনীতিতে অপেক্ষা করছে আরও এক নতুন মোড়? সংবাদমাধ্যমের তরফে তাঁকে এই প্রশ্ন করা হলে বলেন, এখন কিছু বলবেন না। সঠিক সময়ে সকলেই সবটা জানতে পারবেন।


