Aaj lndia Desk, মুর্শিদাবাদ: মুর্শিদাবাদের কর্ণসুবর্ণ স্টেশনের কাছে গোবিন্দপুরের ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনা ঘিরে সামনে এল নতুন দাবি। দুর্ঘটনার পর যাঁর বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছিল, সেই গেটম্যান অনুপ কর্মকার এবার দাবি করলেন, ডাউন লাইনে প্যাসেঞ্জার ট্রেন আসার বিষয়ে তাঁকে কোনও বার্তাই দেওয়া হয়নি। তাঁর অভিযোগ, স্টেশন মাস্টারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য না পাওয়াতেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
গতকাল সকালে কর্ণসুবর্ণ স্টেশনের অদূরে একটি স্কুলপড়ুয়াদের পুলকার রেলগেট পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির প্যাসেঞ্জার ট্রেনের ধাক্কায় ছিটকে যায়। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায় পুলকারে থাকা চার ছাত্রী।
এছাড়াও এক সাইকেল আরোহীরও মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা গেটম্যান অনুপ কর্মকারের উপর হামলা চালান। গণপিটুনিতে তাঁর পা ভেঙে যায়। বর্তমানে তিনি বহরমপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রেল কর্তৃপক্ষ তাঁকে সাসপেন্ড করেছে এবং পুলিশও গ্রেফতার করেছে।
হাসপাতাল থেকেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন অনুপ কর্মকার। তাঁর দাবি, প্রতিদিনের নিয়ম অনুযায়ী আপ ও ডাউন লাইনের ট্রেনের তথ্য সকালে তাঁকে জানানো হয়েছিল। আপ লাইনের ট্রেন স্টেশন ছাড়ার সময় স্টেশন মাস্টার ফোন করে সতর্কও করেছিলেন। কিন্তু ডাউন লাইনের ট্রেন ছাড়ার বিষয়ে কোনও ফোন বা বার্তা তিনি পাননি। সেই সময় ডাউন লাইনের সিগন্যালও লাল ছিল। তাই আপ লাইনের ট্রেন চলে যাওয়ার পর তিনি মনে করেন, ডাউন লাইনের ট্রেন এখনও স্টেশন ছাড়েনি এবং হাতে কয়েক মিনিট সময় রয়েছে। সেই কারণেই রেলগেট খুলে দেওয়া হয়।
অনুপের আরও দাবি, গেটের কেবিন থেকে ডাউন লাইনের ট্রেন দেখা যায় না। পাশাপাশি ট্রেনের তরফেও কোনও হর্ন শোনা যায়নি। তিনি বলেন, গেট খোলার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পুলকারটি লাইনে উঠে পড়ে এবং তখনই ট্রেন এসে ধাক্কা মারে।
তবে গেটম্যানের এই অভিযোগের বিষয়ে এখনও রেলের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।


