Aaj India Desk, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: দক্ষিণ ২৪ পরগনার আমতলায় অবস্থিত পাঁচতলা একটি পার্টি অফিস (Party Office) কে ঘিরে শনিবার সকাল থেকে শুরু হয় প্রশাসনের অভিযান। সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) কার্যালয় হিসেবে পরিচিত এই ভবনে বুলডোজার (Bulldozer Action) নিয়ে পৌঁছন প্রশাসনের আধিকারিকরা। অভিযোগ, প্রয়োজনীয় নির্মাণ অনুমোদন ছাড়াই ভবনটি তৈরি করা হয়েছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই ভাঙার কাজ শুরু হয়।
অভিযান শুরু হতেই স্থানীয়দের মুখে উঠে আসে বহু বছরের পুরনো নানা অভিযোগ। তাঁদের দাবি, যেখানে এখন এই পার্টি অফিস দাঁড়িয়ে রয়েছে, সেখানে আগে একটি পাউরুটির কারখানা ছিল। প্রায় ৫ কাঠা ৬ ছটাক জমির উপর গড়ে ওঠা ওই বেকারিতে প্রায় ৪০ জন কর্মী কাজ করতেন। কারখানার মালিক ছিলেন মতিউর রহমান মল্লিক।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০১৪ সালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথমবার ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ হওয়ার পর আমতলাকে নিজের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে বেছে নেন। এরপর ওই বেকারির জমির উপর নজর পড়ে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের। অভিযোগ, ওই বছরের শেষদিকে আচমকাই বেকারিতে ভয়াবহ আগুন লাগে এবং পুরো কারখানাটি পুড়ে যায়। সেই সময় থেকেই অভিযোগ ওঠে, জমি দখলের উদ্দেশ্যেই আগুন লাগানো হয়েছিল। যদিও এই অভিযোগের কোনও বিচারিক প্রমাণ সামনে আসেনি।
স্থানীয়দের আরও দাবি, আগুনের ঘটনার পর জমির মালিকের উপর নানা ধরনের চাপ তৈরি করা হয়। ভয় দেখিয়ে কম দামে জমি বিক্রি করতে বাধ্য করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ। তাঁদের কথায়, বাজারদর প্রায় ২ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা হলেও কয়েক লক্ষ টাকার বিনিময়ে জমিটি হাতবদল হয়। এই অভিযোগও সংশ্লিষ্ট পক্ষ অস্বীকার করেছে।
এরপর ওই জমিতেই ধাপে ধাপে পাঁচতলা ভবন তৈরি হয়। অভিযোগ, কোনও অনুমোদিত নির্মাণ নকশা ছাড়াই প্রথমে দুই তলা এবং পরে আরও তিন তলা নির্মাণ করা হয়। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, সময়ের সঙ্গে এই অফিস নানা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হয়ে ওঠে।
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অফিসে আসার আগে দীর্ঘ সময় রাস্তা বন্ধ করে রাখা হত। সাধারণ মানুষকে সমস্যার মুখে পড়তে হত। এমনকি গর্ববতী মহিলাদেরও ছাড় দেওয়া হতো না। কেউ প্রতিবাদ করলে তাঁর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হত বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা। তবে এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনও সরকারি বা বিচারিক নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি।
এদিকে, রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের আগেই সুশান্ত মণ্ডল নামে এক ব্যক্তি এই ভবনের নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ তুলে জেলা পরিষদে অভিযোগ করেন এবং আদালতেরও দ্বারস্থ হন। তাঁর দাবি ছিল, অনুমোদন ছাড়া ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয়দের বক্তব্য, অভিযোগ করার পর তিনিও নানা সমস্যার মুখে পড়েছিলেন।
রাজ্যে সরকার বদলের পর জেলা পরিষদ ফের অভিযোগটি খতিয়ে দেখা শুরু করে। গত ৩০ জুন লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস সংস্থার ডিরেক্টর হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাবা অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নোটিস পাঠানো হয়। একইসঙ্গে অভিযোগকারী সুশান্ত মণ্ডল এবং জমির প্রাক্তন মালিক মতিউর রহমান মল্লিককেও ডাকা হয়।
১৫ জুলাই দুপুর ২টোর মধ্যে প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসনের দাবি, নির্ধারিত দিনে অমিত বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত হননি। এরপর ফের নোটিস পাঠিয়ে জানানো হয়, অবৈধ নির্মাণের অভিযোগে ভবনটি ভেঙে ফেলা হবে। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শনিবার সকাল থেকেই জেলা পরিষদ এবং জেলা ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দফতর যৌথভাবে ভাঙার কাজ শুরু করে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার বলেন, আগে ক্ষমতার জোরে আইনকে উপেক্ষা করে অবৈধ নির্মাণ করা হয়েছিল। এখন আইনের ভিত্তিতেই সেই নির্মাণ ভাঙা হচ্ছে। অন্যদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে দাবি করেছেন। তাঁর অভিযোগ, বিরোধী কণ্ঠস্বর দমাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, এই ঘটনার বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হবেন।


