নয়াদিল্লি: ২১ দিন অনশনেও আসেনি কোনও জবাব! তারপর আচমকাই তাঁর ‘স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা’ করে কার্যত অনশনমঞ্চ থেকে পুলিশবাহিনী দিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হল সোনম ওয়াংচুককে (Sonam Wangchuk)। হাইকোর্টের নির্দেশ কার্যকর করতেই এই পদক্ষেপ, পুলিশের তরফে এমন বলা হলেও ‘চিকিৎসা হচ্ছে না’ বলে দাবী করেছেন সোনমের স্ত্রী। ওদিকে, সোনমকে নিয়ে যাওয়া হতেই আমরণ অনশনে বসা ককরোচ-চিফের মুখে কালী লাগিয়ে দিয়েছেন এক মহিলা। সব মিলিয়ে শনিবার যন্তর মন্তরে ঘটনার ঘনঘটা।
এতকিছুর পর এবার অবশেষে সোনম ওয়াংচুকের (Sonam Wangchuk) অনশন নিয়ে মুখ খুলল কেন্দ্র। বিরোধীদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করে এক্সে পোস্ট করলেন করলেন বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য। তাঁর দাবি, দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ মেনেই প্রশাসন সোনমকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছে এবং তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়েছে। এ নিয়ে অযথা বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, সোনম ওয়াংচুকের (Sonam Wangchuk) প্রাথমিক মেডিক্যাল রিপোর্ট এখন সর্বসমক্ষে রয়েছে। সেখানে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, তাঁর সম্মতিতেই স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। এরপর প্রশ্ন তুলে মালব্য লেখেন, “তাহলে এত ক্ষোভ বা বিতর্ক ঠিক কী নিয়ে?”
বিজেপি নেতার বক্তব্য, দীর্ঘ অনশনের ফলে সোনমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী তাঁকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে, যাতে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা যায়। তাঁর দাবি, কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়, বরং একজন নাগরিকের জীবন রক্ষা করাই ছিল প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।
X link: https://x.com/amitmalviya/status/2078384401516507635
এখানেই থেমে থাকেননি মালব্য। বিরোধীদের উদ্দেশে কটাক্ষ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “তাঁর (Sonam Wangchuk) শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হোক, শুধুমাত্র রাজনৈতিক নাটক চালিয়ে যাওয়ার জন্য! বিরোধীরা কি সেটাই চাইছিল?” তাঁর মতে, এমন পরিস্থিতিতে সময়মতো চিকিৎসার ব্যবস্থা করা প্রশাসনের দায়িত্বশীল পদক্ষেপ, এটিকে রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত করা উচিত নয়।
তবে বিরোধী শিবির এবং সোনম ওয়াংচুকের (Sonam Wangchuk) সমর্থকদের প্রশ্ন, অনশন শুরুর পর এতদিন ধরে কেন সরকারের পক্ষ থেকে তাঁর সঙ্গে সরাসরি আলোচনার উদ্যোগ দেখা যায়নি? তাঁদের দাবি, যদি উদ্দেশ্য সত্যিই তাঁর জীবন রক্ষা করা হয়, তাহলে আগে কেন নিয়মিত যোগাযোগ বা আলোচনার মাধ্যমে অনশন ভাঙানোর চেষ্টা করা হল না? হঠাৎ ২১তম দিনে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরেই প্রশ্ন উঠছে।


