32.2 C
Kolkata
Saturday, July 18, 2026
spot_img

হাইকোর্টের নির্দেশ এবং ব্লাড রিপোর্টেরও গরমিল নিয়ে প্রশ্ন তুললেন সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী

Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: নিট (NEET) ইস্যুতে সিজেপি (CJP)-র পাশে দাঁড়িয়ে দিল্লির যন্তর মন্তরে আমরণ অনশনে বসেছিলেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)। শনিবার সকালে তাঁকে অনশন মঞ্চ থেকে তুলে সফদরজং হাসপাতালে নিয়ে যায় দিল্লি পুলিশ (Delhi Police)। পুলিশের দাবি, দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ মেনেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। তবে সেই দাবি সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছেন ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমো।

হাসপাতালের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে গীতাঞ্জলি বলেন, “হাইকোর্টের নির্দেশ নিয়ে যেভাবে বলা হচ্ছে, বাস্তবে কিন্তু আদালত কোথাও সোনমকে হাসপাতালে ভর্তি করার কথা বলেনি। আদালত শুধু বলেছিল, একজন নাগরিকের জীবন ও স্বাস্থ্যের সুরক্ষা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিয়মিত তাঁর শারীরিক অবস্থার পর্যবেক্ষণ করতে হবে। হাসপাতালে ভর্তি করার নির্দেশ আদালত দেয়নি।”

এর পাশাপাশি হাসপাতালের মেডিক্যাল রিপোর্ট নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। গীতাঞ্জলির অভিযোগ, পরিবারের হাতে এখনও সমস্ত রিপোর্ট তুলে দেওয়া হয়নি। হাসপাতালের দাবি, সোনমের শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা ২.৯-এ নেমে এসেছে। কিন্তু সেই তথ্য নিয়ে তাঁদের যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। তিনি বলেন, “গতকাল পর্যন্ত ওঁর পটাশিয়ামের মাত্রা ছিল ৪.৩। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সেটা হঠাৎ ২.৯ হয়ে যাবে, এটা আমাদের কাছে স্বাভাবিক মনে হচ্ছে না। তাই আমরা বাইরের একটি স্বাধীন ল্যাবে আবার সমস্ত পরীক্ষা করাতে চাই। হাসপাতালের রিপোর্ট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত আমরা সেটাই বেশি ভরসা করছি।”

গীতাঞ্জলি আরও জানান, বাইরের পরীক্ষার ফল না আসা পর্যন্ত সোনমকে কোনও ওষুধ বা স্যালাইন দেওয়ার পক্ষেও পরিবার নয়। পাশাপাশি গত ২০ দিন যাঁরা তাঁর চিকিৎসা করেছেন, তাঁদের সঙ্গে আলোচনা না করে নতুন কোনও চিকিৎসা শুরু না করারও অনুরোধ জানিয়েছে পরিবার।

হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর অনেকের মনে প্রশ্ন উঠেছিল, তাহলে কি সোনম ওয়াংচুকের অনশন শেষ হয়ে গেল? সেই জল্পনাও উড়িয়ে দিয়েছেন তাঁর স্ত্রী। তিনি বলেন, “না, ওঁর অনশন ভাঙেনি। এখনও আগের মতোই শুধু নুন মেশানো জল খাচ্ছেন। চিনি, গ্লুকোজ বা অন্য কোনও খাবার তিনি গ্রহণ করেননি। তাই অনশন এখনও পুরোপুরি চলছে।”

সরকার তাঁকে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেও, এরপর চিকিৎসার দায়িত্ব পরিবারই সামলাতে চায় বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন গীতাঞ্জলি। তাঁর কথায়, “সরকার যে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে ওঁকে হাসপাতালে এনেছে, তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। কিন্তু এখন থেকে চিকিৎসা এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত পরিবারের পক্ষ থেকেই নেওয়া হবে। এই বিষয়ে আর সরকারি হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই।”

অনশনের ২১তম দিনে সোনমের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও তাঁর মানসিক শক্তি অটুট রয়েছে বলেও জানিয়েছেন গীতাঞ্জলি। শেষে তিনি বলেন, “এতদিন না খেয়ে থাকার ফলে স্বাভাবিকভাবেই ওঁর শরীর দুর্বল হয়ে পড়েছে, পেশিও ক্ষয় হচ্ছে। তবে মানসিকভাবে তিনি এখনও খুব দৃঢ়। পুরোপুরি সচেতন রয়েছেন এবং নিজের সিদ্ধান্তে অনড় আছেন।”

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন