Aaj India Desk, কলকাতা : তৃণমূলের দলবদলের ঘটনা এখন রীতিমতো হাসির খোরাক। একের পর এক মমতার হাত ছেড়ে ঋতব্রত শিবিরে জাঁকিয়ে বসেছেন তৃনমূলের তাবড় তাবড় নেতারা। সম্প্রতি অনুব্রত ও মদন মিত্রও কালীঘাট ছেড়ে পাড়ি দিয়েছেন ঋতব্রতর ‘আসল তৃনমূলে’। এই রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্রভাবে আক্রমণ করেছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক নির্বাচনে মানুষ শুধু রাজনৈতিক দলের প্রতীক বা রঙ বদলানোর জন্য ভোট দেয়নি, বরং রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিবর্তনের লক্ষ্যেই বিজেপিকে সমর্থন করেছে। পাশাপাশি, নেতাদের দল বদলে বিজেপির হাত থাকার অভিযোগগুলোকেও খারিজ করেছেন তিনি।
দলবদল নিয়ে বিজেপির অবস্থান
মদন মিত্রের শিবির বদলকে ঘিরে রাজনৈতিক জল্পনার মধ্যে শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) বলেন, “এই ধরনের অণু-পরমাণুকে মানুষ চেনে। এই নির্বাচনে শুধু পোশাকের রঙ বদলানোর জন্য মানুষ ভোট দেয়নি। পোশাকের ভেতরে থাকা মানুষটাকে বদলানোর জন্যই বিজেপিকে ভোট দিয়েছে জনতা।”
“দলবদলে বিজেপির হাত নেই”
পাশাপাশি সম্প্রতি একাধিকবার ওঠা অভিযোগগুলো খারিজ করে তিনি জানান, তৃণমূলে যে ভাঙনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে বিজেপির কোনও হাত নেই। তাঁর স্পষ্ট কথা, “কেউ কেউ জল্পনা ছড়াচ্ছে যে, অনেকে নাকি গ্রেফতার হওয়া থেকে বাঁচতে কোনও একটি নির্দিষ্ট শিবিরে যোগ দিচ্ছে। তৃণমূলের দল ভাঙানোতে আমাদের কোনও হাত নেই, আর আমাদের এরকম কোনও ইচ্ছেও নেই।” শমীক ভট্টাচার্যের (Samik Bhattacharya) দাবি, “আমরা ভোটের আগেই বলেছিলাম, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের নিয়ম মেনেই তৃণমূল দলটা একদিন উঠে যাবে। এখন ঠিক সেটাই হচ্ছে।”
উল্লেখ্য, গতকালই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লাইভে এসে ঘোষণা করেন, বিজেপির চক্রান্তের কারণেই নেতারা দল ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন। তিনি জানিয়েছিলেন যে তৃনমূলের নেতাদের দুটো অপশন দেওয়া হচ্ছে, “হয় জেলে যাও নয় শিবির বদল করো”। তাঁর বক্তব্য, অনেক তৃনমূল কর্মী নিজের বিবেক জাগ্রত রেখে জেলে রয়েছেন। তাদেরকে তিনি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেছিলেন, বিজেপি সব কেড়ে নিলেও তিনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। তাঁর এই বক্তব্যের পরই শমীক ভট্টাচার্যের স্পষ্ট উত্তর সামনে এলো।


