Aaj India desk, কলকাতা: তৃণমূলের (TMC) বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ যেন শেষ হচ্ছেই না। ক্ষমতায় থাকতেই কয়লাচুরি সহ নানা রকম চুরির অভিযোগ ছিল তাদের বিরুদ্ধে। ক্ষমতা চলে যেতেই আরও নানান রকম দুর্নীতি সামনে চলে আসছে। এবার তার মধ্যে নতুন যোগ হলো বইমেলা দুর্নীতি। তৃণমূলের আমলে জেলায় জেলায় বইমেলা হত। পাঠককে বই মুখী করার জন্যই ছিল এই উদ্যোগ। কিন্তু বাস্তব ছিল কিছু অন্য।
কি অভিযোগ উঠেছে?
তৃণমূলের (TMC)বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে যে, জেলায় জেলায় যে সরকারি বইমেলাগুলি আয়োজন করা হত, সেখানেও অনৈতিক পন্থা নিয়েছে তারা। নিয়ম বহির্ভূতভাবে তৃণমূল ঘনিষ্ঠ প্রকাশকদের থেকে কয়েক কোটি টাকার বই কিনেছিল তৎকালীন রাজ্য সরকার। সমস্ত গ্রন্থাগারগুলিকে বাধ্য করা হতো তৃণমূল ঘনিষ্ঠ লেখকদের বই কিনে গ্রন্থাগারে রাখতে। তাছাড়া, স্কুল লাইব্রেরিগুলিতে জোর করে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা বই রাখা হত। তার জন্য ১ লক্ষ টাকা গ্র্যান্টের শর্ত দেওয়ার মতো একাধিক বিষয় নিয়েও অতীতে সরব হয়েছিল বিরোধীরা। বর্তমানে জেলা বইমেলার এই নতুন অভিযোগটি সেই প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির তালিকাতেই যুক্ত হয়েছে।
ব্যবস্থা কি নেওয়া হলো?
তৃণমূলের (TMC) এই আর্থিক অনিয়ম ও চুরির অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষকে সুনির্দিষ্ট তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। তৃণমূল (TMC) সরকারের আমলে জেলা বইমেলাগুলির জন্য কত টাকা বরাদ্দ হয়েছিল, কীভাবে বই কেনা হয়েছিল এবং কোন কোন প্রকাশনী অনৈতিক সুবিধা পেয়েছে—তার একটি সামগ্রিক রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারী কড়া নির্দেশ ও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, বইমেলা সহ যেকোনো সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতির সাথে যুক্ত দোষীদের শুধু জেলেই পাঠানো হবে না, বরং দুর্নীতিকারীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে তা নিলাম করে সরকারি টাকা উদ্ধার করা হবে।


