কলকাতা: রাজ্যে পালাবদলের পর খুলতে শুরু করেছে তৃণমূলের ‘প্যান্ডোরার বক্স’! ‘ফাইল খুলতে’ শুরু করায় বিপাকে পড়ছেন তৃণমূলের প্রাক্তন নেতা-মন্ত্রী। এই তালিকায় নাম রয়েছে বীরভূমের একসময় ‘দোর্দণ্ডপ্রতাপ’ নেতা অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal) ওরফে কেষ্টরও। বীরভূমের একটি ইটভাটা থেকে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা লুটের ঘটনায় অনুব্রত মণ্ডলের (Anubrata Mondal) নাম উঠে আসে। যে কোনও সময় হতে পারে গ্রেফতারি!
ইটভাটা মামলায় এর আগে সিউরি আদালতে আগাম জামিনের আর্জি খারিজ হয়ে যায় অনুব্রতর (Anubrata Mondal) । তাঁর আর্জি গ্রহণই করেনি সিউরি জেলা আদালত। এবার সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন তিনি। জানা গিয়েছে, বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে এই মামলার শুনানি হতে পারে। তবে শুনানির তারিখ এখনও জানা যায়নি।
উল্লেখ্য, একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কেষ্ট’ সম্প্রতি দিদির হাত ছেড়ে বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিয়েছেন। তাঁকে বীরভূমের জেলা সভাপতির দায়িত্বও দিয়েছে ‘আসল তৃণমূল’। ঋতব্রত শিবিরে যাওয়ার পর দীর্ঘদিনের ক্ষোভ উগড়ে অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal) বলেন, “দলকে কি আমি কম ভালবেসেছি? কখনও বিধায়ক হই নাই, সাংসদ হই নাই, মন্ত্রী হই নাই। দলকে কেবল দিয়েই গিয়েছি, বিনিময়ে কিছু চাই নাই।”
প্রসঙ্গত, বীরভূমের রাজনীতিতে অনুব্রতকে একসময় চোখ বন্ধ করে ভরসা করতেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর গরু পাচার মামলায় অনুব্রত (Anubrata Mondal) জেলে যান। তারপর থেকেই তাঁর সঙ্গে দলের দূরত্ব বাড়তে থাকে বলে মত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের। এমনকি পালাবদলের আগে একটা দীর্ঘ সময় তাঁকে সেভাবে সক্রিয় দেখাও যায়নি।
এই নিরিখেই অনুব্রতর (Anubrata Mondal) দাবি, জেলে যাওয়ার সময়ও তিনি জেলা সভাপতি ছিলেন। কিন্তু জেল থেকে মুক্তির পর অকারণেই সেই দায়িত্ব থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়।তাঁর দাবি, কী কারণে তাঁকে এই সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে হয়েছিল, তার কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা তিনি পাননি। তিনি স্পষ্ট জিজ্ঞেস করেন, “হঠাৎ ‘আউট’ করে দেওয়া হল! আমার অপরাধটা কী ছিল? কী দোষ করেছিলাম আমি?”
এখন হাইকোর্ট অনুব্রত মণ্ডলকে (Anubrata Mondal) অন্তর্বর্তী স্বস্তি দেয় কি না, নাকি তদন্তকারী সংস্থাকে আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয়, সেটাই এখন দেখার। বীরভূমের এই মামলায় আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপ রাজনৈতিক এবং আইনি, দুই মহলেরই বিশেষ নজরে রয়েছে।


