Aaj India Desk, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নকে আরও গতি দিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের ঘোষণা করল কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার। সোমবার ও মঙ্গলবার—দুই দিনের পশ্চিমবঙ্গ সফর শেষে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় কৃষি ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান (Shivraj Singh Chouhan) এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল-সহ মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য।
সাংবাদিক বৈঠকে শিবরাজ সিং চৌহান বলেন, পশ্চিমবঙ্গকে সঙ্গে না নিয়ে ‘বিকশিত ভারত’-এর স্বপ্ন পূরণ সম্ভব নয়। সেই কারণেই কেন্দ্র ও রাজ্যের ডবল ইঞ্জিন সরকার একযোগে রাজ্যের পরিকাঠামো, কৃষি এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, আগের সরকারের অসহযোগিতা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে সড়ক, জাতীয় মহাসড়ক, রেলপথ, মেট্রো এবং গ্যাস পাইপলাইনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলির কাজ আটকে ছিল। সব মিলিয়ে প্রায় ৮২,৪৯২ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক প্রকল্প কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছিল।
তাঁর দাবি, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই এই প্রকল্পগুলির সমস্ত আইনি ও প্রশাসনিক বাধা দূর করা হয়েছে। ফলে এখন দ্রুত গতিতে কাজ শুরু হবে। এর ফলে রাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে এবং অর্থনীতি ও সামগ্রিক পরিকাঠামোরও উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন ঘটবে।
কৃষকদের সুবিধার জন্য কেন্দ্র সরকার ডিজিটাল কৃষি মিশনের আওতায় ফার্মার রেজিস্ট্রি বা ডিজিটাল কৃষক পরিচয়পত্র তৈরির জন্য ২৬ কোটি ৮৮ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছে। এর পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন গ্রামে নাবার্ড ও বিভিন্ন ব্যাঙ্কের প্রতিনিধিদের নিয়ে বিশেষ শিবির আয়োজন করা হবে। সেখানে কৃষকদের কিসান ক্রেডিট কার্ড (KCC) দেওয়া হবে, যাতে তাঁরা সহজে কৃষিঋণ পান এবং মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিতে বাধ্য না হন।
গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের জুন মাসের শেষ সপ্তাহেই মনরেগা(MGNREGA) প্রকল্পের জন্য পশ্চিমবঙ্গকে ৭০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার আওতায় রাজ্যে ২,৪০০ কিলোমিটার নতুন রাস্তা নির্মাণের জন্য প্রথম ধাপে ১,০০০ কোটি টাকা অনুমোদন করা হয়েছে।
বৈঠকের শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শিক্ষার্থী ও পুষ্টি সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন। তিনি জানান, আগামী ১ আগস্ট থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিড-ডে মিলের জন্য মাথাপিছু দৈনিক বরাদ্দ ৬ টাকা ৭৮ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি কলকাতা ও সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকায় স্কুলপড়ুয়াদের আরও উন্নত ও পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দিতে আন্তর্জাতিক আধ্যাত্মিক সংস্থা ইসকন যৌথভাবে এই দায়িত্ব পালন করবে।
সাংবাদিক বৈঠকের শেষে শিবরাজ সিং চৌহান বলেন, পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নে কেন্দ্র সরকার কোনওরকম ঘাটতি রাখবে না। তাঁর বক্তব্য, এখন থেকে কেন্দ্র ও রাজ্যের ডবল ইঞ্জিন সরকার একসঙ্গে কাজ করবে। উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, পরিকাঠামো এবং কৃষিক্ষেত্রে নতুন দিশা দেখিয়ে পশ্চিমবঙ্গকে দেশের অন্যতম অগ্রগামী রাজ্যে পরিণত করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য।


