28.2 C
Kolkata
Saturday, July 11, 2026
spot_img

কেষ্ট-কাজল এবার এক শিবিরে! বাংলার রাজনীতিতে কতটা তাৎপর্যপূর্ণ এই পদক্ষেপ?

কলকাতা: যাবতীয় জল্পনা সত্যি করে শনির বারবেলায় দিদির হাত ছেড়ে ‘আসল তৃণমূলে’ যোগ দিয়েছেন বীরভূমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal)। রাজ্যে পালাবদলের পর খুব একটা দেখা যায়নি তাঁকে। তবে শুক্রবার থেকেই জল্পনা ওঠে, দলবদলের পথে হাঁটতে চলেছেন এবার মমতার ‘কেষ্টও’। শুক্রবার কর্মসমিতির প্রথম দিনের বৈঠক শেষে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee) নিজেই জানিয়েছিলেন, ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকে অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে তাঁর অন্তত ৩০ বার কথা হয়েছে। একইসঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, শনিবারের মধ্যেই অনুব্রত (Anubrata Mondal) নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করবেন।

সেই জল্পনার মধ্যেই শনিবার বিকেল ৩টায় ‘নব তৃণমূল’-এর জেলাওয়ারি বৈঠকে অনুব্রত মণ্ডলের উপস্থিতির সম্ভাবনা তৈরি হয়। রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়, ওই বৈঠকের মঞ্চ থেকেই তিনি নতুন শিবিরে যোগ দিতে পারেন। পরে সেই জল্পনাই সত্যি হয় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরে যোগ দেন অনুব্রত মণ্ডল। ‘আসল তৃণমূলে’ যোগ দিয়েই বীরভূমের ‘ব্যাটন’ ফিরে পেলেন অনুব্রত মণ্ডল। তাঁকে বীরভূমের জেলা সভাপতির পদ দিল ‘ঋতব্রত তৃণমূল’।

তবে রাজ্য রাজনীতিতে অনুব্রত মণ্ডলের (Anubrata Mondal) শিবির পরিবর্তন নিছক একটি দলবদল নয়, বরং বীরভূমের রাজনৈতিক সমীকরণে সম্ভাব্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। একসময় তৃণমূলের অন্যতম প্রভাবশালী জেলা সংগঠক হিসেবে পরিচিত অনুব্রত মণ্ডল এবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরে যোগ দিয়েছেন। যোগদানের পরই তাঁকে বীরভূম জেলা সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা এই সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে। এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে এল, যখন কালীঘাট-ঘনিষ্ঠ তৃণমূল ছেড়ে একের পর এক পরিচিত মুখ ঋতব্রতপন্থী শিবিরে যোগ দিচ্ছেন। তবে অনুব্রতের (Anubrata Mondal) গুরুত্ব অন্যদের তুলনায় আলাদা।

দীর্ঘদিন ধরে বীরভূমের সংগঠন, পঞ্চায়েত রাজনীতি এবং বুথ স্তরের কর্মীদের উপর তাঁর প্রভাব নিয়ে রাজনৈতিক মহলে খুব একটা দ্বিমত নেই। ফলে তাঁর অবস্থান পরিবর্তনকে শুধু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকরা। এই সমীকরণে আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল কাজল শেখের (Kajal Sheikh) উপস্থিতি। বীরভূমের আর এক প্রভাবশালী নেতা কাজল শেখ (Kajal Sheikh) আগেই ঋতব্রতপন্থী শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন। ফলে জেলার দুই পরিচিত রাজনৈতিক মুখ এখন একই শিবিরে। এতে সংগঠনের শক্তি কতটা বাড়বে, তা সময়ই বলবে। একই সঙ্গে, অতীতে যাঁদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নানা আলোচনা হয়েছে, তাঁদের একই মঞ্চে আসা ভবিষ্যতে বীরভূমের সাংগঠনিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ।

তবে এই যোগদানের প্রভাব নিয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন। অনুব্রত মণ্ডলের (Anubrata Mondal) ব্যক্তিগত সাংগঠনিক প্রভাব কতটা অটুট রয়েছে, তাঁর সঙ্গে কতজন কর্মী-সমর্থক নতুন শিবিরে সক্রিয়ভাবে কাজ করবেন এবং জেলা স্তরে এই পরিবর্তনের বাস্তব প্রভাব কী হবে, তা আগামী কয়েক মাসের রাজনৈতিক কার্যকলাপেই স্পষ্ট হবে।

আরও একটি প্রশ্ন উঠে আসছে—এই যোগদান কি শুধুই বীরভূম-কেন্দ্রিক, নাকি এর মাধ্যমে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee) রাজ্যের অন্যান্য জেলাতেও প্রভাবশালী সংগঠকদের টানার কৌশল নিচ্ছেন? কারণ সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন জেলার একাধিক পরিচিত নেতা তাঁর শিবিরে যোগ দিয়েছেন। অনুব্রতের মতো একটি বড় নাম যুক্ত হওয়ায় সেই বার্তা আরও জোরালো হয়েছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। সব মিলিয়ে, অনুব্রত মণ্ডলের শিবির পরিবর্তনকে শুধুমাত্র একটি দলবদল হিসেবে দেখার সুযোগ কম। এটি বীরভূমের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ, সাংগঠনিক শক্তির পুনর্বিন্যাস এবং রাজ্যের বৃহত্তর বিরোধী রাজনীতির অঙ্কে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন