কলকাতা: শিল্পে বিনিয়োগ টানতে মাস্টারস্ট্রোক? শনিবার ডানকুনিতে লাক্স কোজির কারখানার দ্বিতীয় ইউনিটের শিলান্যাস অনুষ্ঠান থেকে রাজ্যের জমি নীতির ভোলবদলের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি জানান, সরকার এমন একটি নতুন জমি নীতি গ্রহণ করছে, যাতে শিল্প স্থাপনের জন্য জমি অধিগ্রহণ এবং অনুমোদনের প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত করা যায়। তাঁর কথায়, “আমরা আর একটা নন্দীগ্রাম বা সিঙ্গুর চাই না।”
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, নতুন নীতির আওতায় সরকার সরাসরি জমির মালিকদের কাছ থেকে জমি কিনে তা শিল্প স্থাপনের জন্য বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দেবে। এর ফলে শিল্পপতিদের আলাদা করে জমি কেনার প্রক্রিয়ায় যেতে হবে না এবং জমি নিয়ে দীর্ঘ আইনি বা প্রশাসনিক জটিলতাও অনেকটাই কমবে বলে তাঁর বক্তব্য।
এছাড়াও তিনি জানান, ১০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রে স্থানীয় স্তরে বিভিন্ন দপ্তরের অনুমোদন, ছাড়পত্র এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) কথায়, বড় বিনিয়োগকারীদের অপ্রয়োজনীয় দেরি বা স্থানীয় স্তরের বাধার মুখে পড়তে হবে না। প্রশাসন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় অনুমোদনের ব্যবস্থা করবে।
সেইসঙ্গে নন্দীগ্রাম ও সিঙ্গুর আন্দোলনের প্রসঙ্গও টানেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)। তিনি বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই সরকার এমন নীতি নিতে চাইছে, যাতে শিল্পায়নও এগোয়, আবার জমি নিয়ে কোনও ধরনের সংঘাত বা অস্থিরতার পরিস্থিতিও তৈরি না হয়। তাঁর (Suvendu Adhikari) মতে, শিল্প ও কৃষির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখেই উন্নয়নের পথে এগোতে হবে।
লাক্স কোজি ইন্ডাস্ট্রিজের এই নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে ঠিক কতজনের কর্মসংস্থান হবে, সে বিষয়ে এখনও সংস্থার পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
রাজ্য সরকারের নতুন জমি নীতির আনুষ্ঠানিক খসড়া বা বাস্তবায়নের সময়সূচি এখনও প্রকাশ করা হয়নি। তবে মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) ঘোষণার পর শিল্পমহলে বিষয়টি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আগামী দিনে এই নীতির বিস্তারিত রূপরেখা প্রকাশের দিকেই এখন নজর থাকবে।


