কলকাতা: লক্ষ্মীবারের ভোর থেকে রাজ্যজুড়ে ইডির (ED) ‘মেগা-রেইড’! দুর্গাপুর, হাওড়া এবং নদিয়াসহ একাধিক জায়গায় একসঙ্গে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। বাড়িগুলি ঘিরে রেখেছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। সকাল থেকেই এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
সবচেয়ে বড় অভিযান চলছে পশ্চিম বর্ধমানের অন্ডালে। শ্রীপল্লি সুভাষনগর রিক্সাডাঙাল এলাকার বাসিন্দা তথা ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড (ইসিএল)-এর প্রাক্তন কর্মী দিলীপ মল্লিকের বাড়িতে তল্লাশি শুরু করেছে ইডি। তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে খবর, ক্রিপ্টোকারেন্সিতে (Crypto) বিনিয়োগের নামে কোটি কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই মামলায় দিলীপ মল্লিক এবং তাঁর ছেলে দিগন্ত মল্লিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।
একইসঙ্গে হাওড়ার ব্যাটরা থানার কুচিল সরকার লেনে সৌরভ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতেও তল্লাশি চালাচ্ছে ইডি (ED)। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, তিনি একাধিক চিটফান্ড (Chit fund) সংস্থার সঙ্গে যুক্ত এবং শেয়ার বাজারের ব্যবসার সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ রয়েছে।
পাশাপাশি নদিয়ার রানাঘাটের কালিনারায়ণপুরে ব্যবসায়ী সুভ্রকান্তি নাগ ওরফে বাবাই নাগের বাড়িতেও অভিযান চলছে। অভিযোগ, তিনি ‘স্টক গুরুকুল’ নামে একটি সংস্থার মাধ্যমে শেয়ার বাজারে প্রশিক্ষণ ও বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে ভুয়ো চিটফান্ড (Chit fund) পরিচালনা করতেন এবং বহু মানুষের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তবে অভিযানের সময় সুভ্রকান্তি ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বাড়িতে পাওয়া যায়নি বলে তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে। এছাড়াও নদিয়ার কালীনারায়ণপুরে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের নামে ভুয়ো সংস্থা চালানোর অভিযোগে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতেও হানা দিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (ED)।
তদন্তকারী সূত্রের দাবি, আর্থিক প্রতারণা, বেআইনি অর্থ লেনদেন এবং অর্থপাচারের সম্ভাব্য যোগ খতিয়ে দেখতেই এই সমন্বিত অভিযান চালানো হচ্ছে। তল্লাশির সময় একাধিক নথি, ডিজিটাল ডিভাইস এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলেও জানা গিয়েছে।
এখনও পর্যন্ত ইডি (ED) এই অভিযানে কী কী উদ্ধার হয়েছে বা কাউকে আটক করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তবে তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, দিলীপ মল্লিক, দিগন্ত মল্লিক বা অন্যদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলি বর্তমানে তদন্তাধীন। অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি বিচারাধীন।


