Aaj India Desk, কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গে গত এক দশকেরও বেশি সময়ে ইস্যু হওয়া জাতিগত শংসাপত্রের (Caste Certificate) স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তথ্য-যাচাই শুরু করেছিল রাজ্য সরকার। সেই শংসাপত্র যাচাই অভিযানে একের পর এক উঠে আসে অনিয়মের অভিযোগ। এই অনিয়মের জেরে ইতিমধ্যেই বাতিল করা হয় ৭০০টি কাস্ট সার্টিফিকেট। অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দপ্তরের আশঙ্কা, যাচাই সম্পূর্ণ হলে বাতিলের সংখ্যা লক্ষাধিকে পৌঁছতে পারে।
কেন শুরু হল এই যাচাই?
অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, অতীতে ইস্যু হওয়া বিপুল সংখ্যক জাতিগত শংসাপত্রের (Caste Certificate) সত্যতা যাচাইয়ের জন্য রাজ্যজুড়ে বিশেষ ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সরকারের দাবি, দ্রুত পরিষেবা দেওয়ার তাগিদে বহু ক্ষেত্রে যথাযথ নথি যাচাই ছাড়াই সার্টিফিকেট অনুমোদনের অভিযোগ সামনে এসেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে রাজ্য জুড়ে এসসি, এসটি শংসাপত্র অনুমোদন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
কতগুলি সার্টিফিকেটের যাচাই হবে?
দপ্তর সূত্রে খবর, ২০১১ সাল থেকে ইস্যু হওয়া প্রায় ১.৬৯ কোটি জাতিগত শংসাপত্র (Caste Certificate) পুনরায় যাচাই করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে—
- প্রায় ১ কোটি তফসিলি জাতি (SC) সার্টিফিকেট
- প্রায় ২১ লক্ষ তফসিলি উপজাতি (ST) সার্টিফিকেট
- প্রায় ৪৮ লক্ষ ওবিসি (OBC) সার্টিফিকেট
গত ১৪ মে সমস্ত জেলার জেলাশাসকদের এই নির্দেশ পাঠানো হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ ও গ্রন্থাগার মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ বলেন, “গত ১৫ বছরে বা তারও আগে যত ভুয়া সার্টিফিকেট ইস্যু হয়েছে, তা দ্রুততার সঙ্গে বাতিল করতে ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া চালু হয়েছে।” মন্ত্রী আরও দাবি করেন, এসসি, এসটি এবং ওবিসি সব ক্ষেত্রেই অনিয়মের অভিযোগ মিলছে। তাঁর বক্তব্য, কিছু ক্ষেত্রে প্রভাব খাটিয়ে ভুয়া জাতিগত শংসাপত্র সংগ্রহের অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে। ভুয়া তথ্য দিয়ে সরকারি সুবিধা বা চাকরি পাওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন মন্ত্রী।
মন্ত্রী জানান, ভুয়া সার্টিফিকেট বাতিলের পাশাপাশি প্রকৃত যোগ্য আবেদনকারীরা যাতে দ্রুত জাতিগত শংসাপত্র পান, সে বিষয়েও এসডিও অফিসগুলিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের দাবি, ভবিষ্যতে স্বচ্ছ ও নির্ভুল যাচাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নতুন সার্টিফিকেট ইস্যু করা হবে।


