Aaj India Desk, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: রবিবারের ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় (Baruipur Rape Murder Case) এখনও উত্তপ্ত বারুইপুর। সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে গতকাল মোড়ে মোড়ে উপচে পড়েছিল মানুষের ভিড়। তীব্র ক্ষোভ ও ন্যায় বিচারের আশায় থানার আশেপাশেও ভিড় জমিয়েছিলেন স্থানীয় এলাকাবাসী। এরই মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সোমবার ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ১৬৩ ধারা জারি করলো পুলিশ। একই সঙ্গে নাবালিকার মৃত্যু মামলার তদন্তে গঠন করা হয়েছে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)।
তিন থানা এলাকায় কড়া নিষেধাজ্ঞা
সোমবার সকাল থেকেই বারুইপুর, নরেন্দ্রপুর ও সোনারপুর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বজায় রয়েছে। নতুন করে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না হয়, সেই লক্ষ্যেই প্রশাসন এই তিন এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি করেছে। এই নির্দেশ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট এলাকায় পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ। পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও সংবেদনশীল এলাকায় পুলিশ এবং যৌথবাহিনীর টহলদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
অন্যদিকে (Baruipur Rape Murder Case) ঘটনাস্থল এবং আশপাশের এলাকায় কড়া নিরাপত্তা বলয়ও গড়ে তোলা হয়েছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, কোনও বেআইনি জমায়েত বা উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড বরদাস্ত করা হবে না। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে আইন নিজের হাতে না নেওয়ার এবং সমাজমাধ্যমে ছড়ানো কোনও গুজবে কান না দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে প্রশাসন।
SIT গঠন করে তদন্তে জোর
পাশাপাশি ঘটনার (Baruipur Rape Murder Case) তদন্তে রবিবার রাতভর বিভিন্ন এলাকায় চিরুনি তল্লাশি চালায় পুলিশ। এখনও পর্যন্ত দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আরও তিনজনকে আটক রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আজই তাদের আদালতে পেশ করা হবে। তদন্তের স্বার্থে ইতিমধ্যেই ছয় সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই কিশোরীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং মৃত্যুর আগে যৌন নির্যাতনের অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে স্পষ্ট হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত শনিবার থেকে নিখোঁজ ছিল বারুইপুরের ১২ বছরের এক কিশোরী। রবিবার সকালে একটি পুকুর থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। এরপরই এলাকায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। দ্রুত দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে স্থানীয়রা পথ অবরোধ করেন।পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে খুনি সন্দেহে এক যুবককে গণপিটুনিও দেওয়া হয়। পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির অভিযোগও ওঠে। এরপর অতিরিক্ত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হলে রাতের দিকে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। বর্তমানে বারুইপুর, নরেন্দ্রপুর ও সোনারপুর এলাকায় কড়া নিরাপত্তা বলবৎ রয়েছে। পরিস্থিতির উপর নজর রেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে বলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।


