Aaj India Desk, কলকাতা : একাধিক শীর্ষ নেতা নেত্রীর পদত্যাগের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের মতবিরোধ আরও প্রকাশ্যে এসেছে। এবার সেই পদত্যাগকারী নেতাদের উদ্দেশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন দলের বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায় (Sougata Roy)। তাঁর সেই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ফের নতুন করে শুরু হয়েছে জল্পনা।
গতকাল চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের রাজ্য সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তাঁর পদত্যাগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দলের সাংসদ সৌগত রায় (Sougata Roy) প্রকাশ্যে দাবি করেন, রাজ্য সভাপতি হিসেবে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য নিজের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারেননি। বিশেষ করে দলের কার্যালয় দখলের ঘটনায় তিনি কার্যকর ভূমিকা নিতে ব্যর্থ হয়েছেন বলেই অভিযোগ করেন সৌগত রায়। তাঁর মতে, এই কারণেই দলের ভিতরে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল।
দলের শীর্ষ নেতৃত্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের উপর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন। অতীতে নির্বাচনে পরাজয়ের পরও তাঁকে অন্য কেন্দ্র থেকে জিতিয়ে এনে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই আস্থার মর্যাদা তিনি রাখতে পারেননি বলেই দাবি সাংসদ সৌগত রায়ের। সাথে তিনি জানান, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য নিজেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁকে সেই সিদ্ধান্ত থেকে বিরত রাখার কোনও উদ্যোগ দলের তরফে নেওয়া হয়নি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য, পদত্যাগের পরেই চন্দ্রিমা জানিয়েছিলেন, ভবনে তিনি কোনও নেতাকে বাধা দেওয়ার অবস্থায় ছিলেন না। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন মন্ত্রী থাকলেও নিজের দপ্তর পরিচালনায় তাঁর স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ ছিল না। তাঁর দাবি, “লোকে দেখেছে আমার অনেক ক্ষমতা আছে। কিন্তু নিজস্ব মতামত দিয়ে দপ্তর চালানোর কতটা ক্ষমতা ছিল, সেটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানেন। আমি ডামি মন্ত্রী ছিলাম।”
তবে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের এই অভিযোগগুলি নিয়ে রীতিমতো সন্দিহান সৌগত রায়। চন্দ্রিমা যে অভিযোগগুলি করছেন, সেগুলির সত্যতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন তিনি। তবে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের পদত্যাগ এবং তার পরপরই সৌগত রায়ের এই প্রকাশ্য সমালোচনায় তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়েছে বলেই রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।


