Aaj India Desk, হাওড়া: হাওড়া ডিভিশনে (Hawrah Division) রেল পরিষেবাকে আরও উন্নত করতে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিচ্ছে পূর্ব রেল (Eastern Railway)। নতুন ট্রেন চালুর প্রস্তুতির পাশাপাশি স্টেশনের পরিকাঠামোও আধুনিক করা হচ্ছে। রেলের দাবি, এসব কাজ শেষ হলে ট্রেন চলাচল আরও দ্রুত ও স্বাভাবিক হবে। ভবিষ্যতে নতুন বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস (Vande Bharat Sleeper Express) চালুর কথাও মাথায় রেখে এই উন্নয়নমূলক কাজ এগিয়ে চলেছে।
শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে হাওড়া ডিভিশনের ডিআরএম বিশাল কাপুর জানান, হাওড়া স্টেশনে নতুন ২৪ নম্বর প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে। প্রায় ৬৩৫ মিটার দীর্ঘ এই প্ল্যাটফর্ম নির্মাণে খরচ হয়েছে ২.৬৯ কোটি টাকা। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি জুলাই মাসেই এটি যাত্রীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে।
শুধু নতুন প্ল্যাটফর্মই নয়, দীর্ঘ দূরত্বের ট্রেন পরিচালনা আরও সহজ করতে ১০-১১ এবং ১২-১৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মও বড় করা হচ্ছে। পাশাপাশি ১৬ নম্বর প্ল্যাটফর্মের কাজও এগোচ্ছে। তবে সেটি চালু হতে এখনও কিছুটা সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন রেল কর্তারা। এছাড়া হাওড়া স্টেশনে বসানো হচ্ছে আধুনিক Route Relay Interlocking (RRI) ব্যবস্থা। এই প্রযুক্তি চালু হলে ট্রেন পরিচালনা আরও নিরাপদ, দ্রুত এবং কার্যকর হবে বলে আশা করছে রেল।
ডিআরএম বিশাল কাপুর জানান, বর্তমানে দক্ষিণ-পূর্ব রেল এবং পূর্ব রেলের লাইন একটি নির্দিষ্ট জায়গায় এসে মিলিত হওয়ায় ট্রেন চলাচলে জট তৈরি হচ্ছে। এর ফলে অনেক সময় ট্রেন স্টেশন ছাড়তে বা ঢুকতে দেরি হচ্ছে। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে ওই অংশকে আলাদা করার কাজ চলছে। কাজ শেষ হলে ট্রেন দেরিতে চলার সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে বলে রেলের আশা।
এদিকে যাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে হাওড়া ডিভিশনের বিভিন্ন স্টেশনে নতুন ফুট ওভারব্রিজও তৈরি করা হচ্ছে। তারকেশ্বর, লিলুয়া, আজিমগঞ্জ, ডানকুনি, রামপুরহাট এবং কাটোয়া স্টেশনে এই কাজ শেষ হয়েছে বা শেষ পর্যায়ে রয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন স্টেশনে লিফট বসানোর কাজও চলছে। ইতিমধ্যেই ৮টি স্টেশনে ১৫টি লিফট চালু হয়েছে। আগামী দিনে হাওড়া, তারকেশ্বর, সাঁইথিয়া, বালি, রিষড়া, বেলুড়, শেওড়াফুলি, চন্দননগর, ব্যান্ডেল, লিলুয়া-সহ আরও বেশ কয়েকটি স্টেশনে নতুন লিফট বসানো হবে।
এছাড়া প্রায় ৭৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯টি স্টেশনে এস্কেলেটর বসানোর পরিকল্পনাও নিয়েছে পূর্ব রেল। এই তালিকায় রয়েছে বালি, শেওড়াফুলি, চন্দননগর, বর্ধমান, বোলপুর, রামপুরহাট, অম্বিকা-কালনা, কাটোয়া এবং আজিমগঞ্জ স্টেশন। রেলের আশা, এই সব উন্নয়ন শেষ হলে যাত্রীদের যাতায়াত আরও আরামদায়ক ও সুবিধাজনক হবে।


