Aaj India Desk, কলকাতা: একুশে জুলাই (21st July)-য়ের শহিদ দিবস পালন নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। ‘কালীঘাট তৃণমূল’ এবং ‘ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল’ —দুই পক্ষই এদিন শহিদ দিবস (Sahid Divas) পালন করতে চাইলেও ধর্মতলায় ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি কলকাতা পুলিশ (Kolkata Police)। পাশাপাশি, ৩০ অগস্ট পর্যন্ত মধ্য কলকাতায় জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি থাকায় সভাস্থল নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে শনিবার ফেসবুক লাইভে মুখ খোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যেখানেই হোক, একুশে জুলাইয়ের শহিদ স্মরণ অনুষ্ঠান বন্ধ হবে না। মমতার কথায়, পুলিশ অনুমতি না দিলেও শহিদ দিবস পালন করা হবেই। তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূলের কর্মসূচি আটকে দিতেই মধ্য কলকাতায় জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তাঁর দাবি, এতে গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রয়োজনে রিকশার ওপর দাঁড়িয়েও শহিদ দিবস পালন করবেন।
দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে মমতা আশ্বাস দিয়ে বলেন, কোনও দুশ্চিন্তা করার প্রয়োজন নেই। দল তাদের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। মানুষের জন্য এবং কর্মীদের জন্য শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তাও দেন তিনি এবং শেষপর্যন্ত কোথায় অনুষ্ঠান হবে, পুলিশের অনুমতি মিললেই তা জানিয়ে দেওয়া হবে।
এদিন ফেসবুক লাইভে কলকাতার মেট্রোপলিটনে তৃণমূলের অস্থায়ী দলীয় কার্যালয়ে তালা লাগানোর ঘটনাও তুলে ধরেন মমতা। তাঁর দাবি, অফিসটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ভাড়ায় নেওয়া হয়েছিল এবং ২০২৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সেই চুক্তি কার্যকর ছিল। প্রতি মাসে নিয়ম মেনে চেকের মাধ্যমে ভাড়া এবং বিদ্যুতের বিলও দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। তাই হঠাৎ করে সেখানে তালা লাগানো কেন হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মমতা। তিনি বলেন, একটি অফিসে তালা লাগানো যেতে পারে, কিন্তু মানুষের মনে কোনও তালা লাগানো সম্ভব নয়। এই ঘটনায় থানায় অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, মমতার বক্তব্যের পর পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেন ঋতব্রত শিবিরের বিধায়ক সন্দীপন সাহা। তাঁর দাবি, কালীঘাটে এখন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে অনেকেই স্বস্তিতে কাজ করতে পারছেন না। সেই কারণেই চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের মতো প্রবীণ নেত্রীও অন্য শিবিরে যোগ দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। সন্দীপনের আরও দাবি, ২২ জুন দলের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে যাঁদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তাঁরাই এখনও বৈধ পদাধিকারী। কিন্তু কালীঘাটে প্রায় প্রতিদিনই নতুন নতুন লোককে বিভিন্ন দায়িত্বে বসানো হচ্ছে।


