Aaj India Desk, কলকাতা : চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফার পর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। পদত্যাগের কারণ হিসেবে আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন তোলার অভিযোগ সামনে আসার পর এবার বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কটাক্ষ করলেন তৃণমূল নেতা ও বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। তাঁর মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
কেন পদত্যাগ করলেন চন্দ্রিমা?
চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানান, সাম্প্রতিক তৃনমূল ভবনের হাতছাড়া হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। মেট্রোপলিটন ভবনটি ঋতব্রত শিবির দখল করার পর ফোনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে প্রশ্ন করেন, “তুমি ওদের হাতে ভবন তুলে দিলে?” এরপরই তিনি রাজ্য সভানেত্রীর পদ-সহ দলের সমস্ত সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে দলের সংগঠনের কাজ করেছেন। কিন্তু আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর সেই দায়িত্বে থাকা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।
তীব্র কটাক্ষ কুণালের
চন্দ্রিমার এই বক্তব্যের পর প্রতিক্রিয়া দেন কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন তিনি মমতার সঙ্গে ছিলেন। মমতা তাঁকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তাঁর মন্ত্রিত্বের তালিকাও দীর্ঘ। তখন তো অভিমান হয়নি।”
তিনি আরও ইঙ্গিতপূর্ণভাবে বলেন, দলের কাছ থেকে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পাওয়ার পর এখন অভিমানের কথা তুলে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিদ্রোহী শিবিরের দলনেতার ঘরে বসে বৈঠক করছেন তিনি। এতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গ মন্ত্রী পরিষদে দীর্ঘদিন আইন, জুডিশিয়াল বিষয়ক মন্ত্রী ছিলেন দলের মহিলা সেলের সভানেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, ভূমি ও ভূমি সংস্কার, শরণার্থী ও পুনর্বাসন ইত্যাদি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী পদেও ছিলেন তিনি। সাথে তিনি দলের স্বাক্ষরকারী (signing authority) এবং নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধি হিসেবেও কাজ করেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের ছায়াসঙ্গী এবং বিশ্বাসভাজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। এই অবস্থায় তাঁর সাংগঠনিক পদত্যাগকে ঘিরে দলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।


