Aaj India Desk, কলকাতা: তারাতলার গুদাম ধসের (Taraatola Godown Collapse) ঘটনার পর উদ্ধারকাজে যাঁরা দিনরাত পরিশ্রম করেছেন, তাঁদের সম্মান জানাল রাজ্য সরকার। শনিবার আলিপুর বডিগার্ড লাইন্সে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) উদ্ধারকারী দলের সদস্যদের সংবর্ধনা দেন। একইসঙ্গে তিনি ‘দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড’-এর আওতায় নতুন অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি পরিষেবার জন্য বাইক পরিষেবারও উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী পুলিশ, দমকল, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী-সহ উদ্ধারকাজে যুক্ত সমস্ত সংস্থার কর্মীদের ধন্যবাদ জানান। তাঁর বক্তব্য, তারাতলার ঘটনায় যেভাবে সব দফতর একসঙ্গে কাজ করেছে, তা একটি ভালো উদাহরণ তৈরি করেছে। সবার সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলেই দ্রুত উদ্ধারকাজ সম্ভব হয়েছে বলে তিনি জানান।
এই প্রসঙ্গেই তিনি পূর্ববর্তী তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) সরকারের সমালোচনা করেন। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, অতীতেও কলকাতায় বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু তখন রাজ্য ও কেন্দ্রের বিভিন্ন সংস্থা এত সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারেনি। তাঁর মতে, একটি সরকারের মূল দায়িত্ব হল শিল্প আনা, কর্মসংস্থান তৈরি করা এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কিন্তু আগের সরকার সেই দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করতে পারেনি।
তারাতলার ঘটনার পর রাজ্য সরকার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও জানান শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, পাঁচতলা বা তার বেশি উচ্চতার নির্মীয়মাণ ভবনগুলিতে বিশেষ নিরাপত্তা পরীক্ষা করা হবে। নির্মাণকাজে নিরাপত্তার নিয়ম মানা হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবে প্রশাসন।
এছাড়াও তিনি জানান, রাজ্যে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী একটি বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী গড়ে তোলা হবে। শুধু দুর্ঘটনার পরে উদ্ধারকাজ নয়, ভবিষ্যতে আরও দ্রুত ও উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে কাজ করার লক্ষ্য নিয়েই এই পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী স্বীকার করেন, বর্তমানে উদ্ধারকাজের ক্ষেত্রে প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক সরঞ্জামের কিছু ঘাটতি রয়েছে। তবে তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত প্রশিক্ষণে দক্ষ একটি পূর্ণাঙ্গ বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী তৈরি করা হবে।
অনুষ্ঠানে চালু হওয়া নতুন অ্যাম্বুলেন্স ও বাইক পরিষেবার উদ্দেশ্য হল জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত মানুষের কাছে চিকিৎসা ও প্রাথমিক উদ্ধার পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া। প্রশাসনের আশা, এই উদ্যোগ শহরের বিভিন্ন এলাকায় দ্রুত পরিষেবা দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তারাতলার ঘটনার পর নিরাপত্তা ও বিপর্যয় মোকাবিলা নিয়ে রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগ যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। প্রশাসনিক প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করা এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি আরও দক্ষতার সঙ্গে সামাল দেওয়ার বার্তাই এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, তারাতলা গুদাম ধসের ঘটনায় উদ্ধারকারীদের সম্মান জানানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য আরও আধুনিক, দ্রুত ও প্রযুক্তিনির্ভর বিপর্যয় মোকাবিলা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিই তুলে ধরল রাজ্য সরকার।প্রয়োজনে এটিকে আরও নিউজ চ্যানেলের স্টাইলে, আরও ভাইরাল বা আরও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার ভাষায়ও লিখে দিতে পারি।


