33.3 C
Kolkata
Saturday, July 4, 2026
spot_img

অসমের পর বাংলা! কেন টাটার সেমিকন্ডাক্টর ইউনিট আনতে মরিয়া নতুন সরকার?

Aaj India Desk, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়নের নতুন সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) জানিয়েছেন, রাজ্যে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার হোসিয়ারি শিল্প এবং ১,৫০০ কোটি টাকার ইস্পাত কারখানা গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এর পাশাপাশি তিনি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব দিয়েছেন। তাঁর মতে, যদি টাটা গোষ্ঠী পশ্চিমবঙ্গে একটি সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন বা অ্যাসেম্বলি ইউনিট এবং একটি আধুনিক ডেটা সেন্টার তৈরি করে, তাহলে রাজ্যের শিল্পের ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণ নতুন পথে এগোতে পারে।

সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে কেন এত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে?

আসলে, আজকের আধুনিক প্রযুক্তির প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই সেমিকন্ডাক্টর চিপের ব্যবহার রয়েছে। স্মার্টফোন, কম্পিউটার, টেলিভিশন, বৈদ্যুতিক গাড়ি, চিকিৎসার উন্নত যন্ত্র, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, মহাকাশ গবেষণা থেকে শুরু করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)—সবকিছুর মূল চালিকাশক্তি এই ছোট্ট চিপ। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের বিশ্ব অর্থনীতিতে সেমিকন্ডাক্টরের গুরুত্ব তেলের মতোই কৌশলগত হয়ে উঠবে। কোভিডের পর বিশ্বজুড়ে চিপের ঘাটতির কারণে বহু শিল্পে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার পর ভারত সরকারও দেশে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে, যাতে বিদেশের ওপর নির্ভরতা কমানো যায়।

বর্তমানে ভারতে এই শিল্প এখনও বিকাশের প্রথম ধাপে রয়েছে। ইতিমধ্যেই টাটা গোষ্ঠী অসমের জাগিরোডে প্রায় ২৭,১২০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে একটি অত্যাধুনিক OSAT (Outsourced Semiconductor Assembly and Test) প্ল্যান্ট তৈরি করছে। এই প্রকল্প চালু হলে বছরে প্রায় ১৫ বিলিয়ন চিপ প্যাকেজিং করা সম্ভব হবে। প্রতিদিন প্রায় ৪.৮ কোটি চিপ প্রক্রিয়াকরণ হবে এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২৭ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হবে।

নতুন সরকারের লক্ষ্য, একই ধরনের একটি প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গেও আনা। বিশেষজ্ঞদের মতে, সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের সবচেয়ে বড় শক্তি হল এটি একা আসে না। একটি কারখানার সঙ্গে গড়ে ওঠে আরও বহু সহযোগী শিল্প। যেমন- চিপ প্যাকেজিং, বিশেষ রাসায়নিক উৎপাদন, উন্নত প্লাস্টিক, প্রিসিশন ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ, লজিস্টিকস, যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ, গবেষণাগার এবং সফটওয়্যার ডিজাইনের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্র। ফলে একটি বড় শিল্প ইকোসিস্টেম তৈরি হয়, যা রাজ্যের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

এই শিল্পে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীর প্রয়োজন হয়। ইলেকট্রনিক্স, সফটওয়্যার, কেমিক্যাল ও মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, অটোমেশন ও রোবোটিক্স বিশেষজ্ঞ এবং গবেষকদের জন্য এখানে ভালো বেতনের চাকরির সুযোগ তৈরি হয়।

বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের বহু ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া কাজের জন্য বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, পুনে কিংবা বিদেশে চলে যান। রাজ্যে এই ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প গড়ে উঠলে তাঁদের অনেকেই নিজের রাজ্যেই কাজ করার সুযোগ পেতে পারেন। শিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, গত এক দশকে পশ্চিমবঙ্গে বড় উৎপাদন শিল্পের সংখ্যা খুব একটা বাড়েনি। তাই একটি সেমিকন্ডাক্টর প্রকল্প এলে দেশ-বিদেশের বিনিয়োগকারীদের কাছে ইতিবাচক বার্তা যাবে যে, পশ্চিমবঙ্গ এখন উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের জন্যও প্রস্তুত।

মুখ্যমন্ত্রী শুধু সেমিকন্ডাক্টর নয়, ডেটা সেন্টার তৈরির ওপরও জোর দিয়েছেন। বর্তমানে AI, ক্লাউড কম্পিউটিং, ডিজিটাল পেমেন্ট, সরকারি অনলাইন পরিষেবা এবং OTT প্ল্যাটফর্মের দ্রুত বিস্তারের কারণে বড় ডেটা সেন্টারের চাহিদা বাড়ছে। সরকারের আশা, ভবিষ্যতে কলকাতা পূর্ব ভারতের অন্যতম ডিজিটাল হাব হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। ডেটা সেন্টার তৈরি হলে আইটি পরিষেবা সম্প্রসারিত হবে, স্টার্টআপ সংস্থাগুলি আরও সুযোগ পাবে এবং প্রযুক্তিভিত্তিক নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে।

এই আলোচনায় সিঙ্গুরের প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বর্তমানে এলাকার বহু কৃষক শিল্পের জন্য জমি দিতে আগ্রহী। যদিও এখনও টাটাকে সিঙ্গুরে জমি দেওয়ার কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে সরকারের উদ্দেশ্য স্পষ্ট—অতীতের বিতর্ক ভুলে টাটা গোষ্ঠীর সঙ্গে নতুন করে শিল্প সম্পর্ক গড়ে তোলা।

শিল্প দফতরের সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী সেপ্টেম্বর মাসে নতুন সরকারের প্রথম শিল্প সম্মেলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সম্মেলনেই নতুন শিল্প নীতি প্রকাশ করা হতে পারে। পর্যবেক্ষকদের মতে, হোসিয়ারি, ইস্পাত, স্বাস্থ্য পরিকাঠামো এবং উচ্চ প্রযুক্তির সেমিকন্ডাক্টর শিল্প—এই চারটি ক্ষেত্রকে গুরুত্ব দিয়েই আগামী দিনের বিনিয়োগ পরিকল্পনা তৈরি করছে সরকার।

টাটা গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা সফল হলে, অসমের পর পূর্ব ভারতের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ সেমিকন্ডাক্টর কেন্দ্র হিসেবে পশ্চিমবঙ্গও উঠে আসতে পারে। যদি সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়, তাহলে শুধু একটি নতুন কারখানাই নয়, রাজ্যের শিল্প ও অর্থনীতির ভবিষ্যৎও নতুন দিশা পেতে পারে।প্রয়োজনে এটিকে আরও নিউজ অ্যাঙ্কর স্টাইল, ইউটিউব স্ক্রিপ্ট, বা ওয়েব নিউজ আর্টিকেল-এর ভাষায়ও সাজিয়ে দিতে পারি।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন