মুর্শিদাবাদ: ‘উস্কানিমূলক মন্তব্য’ মামলায় শুক্রবার শক্তিপুর থানায় হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবিরের (Humayun Kabir)। কিন্তু হাজিরা তো দেনই নি। উল্টে প্রকাশ্যে শক্তিপুর থানার ওসিকে ‘বাপ-মা’ তুলে অশ্রাব্য কুকথা বলেছিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চিফ হুমায়ুন কবির। আজ অর্থাৎ শনিবার রেজিনগর থানায় সকাল সাড়ে ১১ টায় হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল তাঁর (Humayun Kabir) । আকাশে ড্রোন, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও বিপুল সংখ্যক পুলিশের নজরদারিতে ঘিরে ফেলা হয় রেজিনগর থানা চত্বর। নির্ধারিত সময়ের ঠিক ৩ মিনিট আগে থানায় প্রবেশ করেন হুমায়ুন কবির।
প্রসঙ্গত, গত ২৬ জুন রেজিনগরের কেশপুরের একটি জনসভায় বিজেপিকে আক্রমণ করে হুমায়ুন (Humayun Kabir) বলেন, “মুসলমানদের জড়ো করে এমন স্যাটাভাঙা মার শুরু করব, যে পতাকা বওয়ার লোক পাবে না”! পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, “আমার মাথা যেদিন গরম হয়ে যাবে, সেদিন আমি এসপি, চিফ মিনিস্টার—এসব কিছু বুঝব না।”
এখানেই শেষ নয়, কাশীপুরের জনসভায় তাঁর (Humayun Kabir) আরও চ্যালেঞ্জ, ‘‘কেস হবে? ওরকম কেস আমাদের বিরুদ্ধে অনেক আছে।” হুমায়ুনের (Humayun Kabir) এই মন্তব্যে মুর্শিদাবাদের শক্তিপুর ও রেজিনগর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে জোড়া মামালা দায়ের হয়। বিধানসভা অধিবেশনে হুমায়ুনকে কার্যত সাবধান করে আল্টিমেটাম দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
শুক্রবার শক্তিপুর থানায় সকাল সাড়ে ১১ টায় হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল হুমায়ুনের। হাজিরা না দিয়ে তিনি বলেন, “ওসি যেখানে যাচ্ছে সেখানেই বলছে, আমার বাপ এসেছে! আজ যাচ্ছি না। তবে এসপিকে জানিয়ে শক্তিপুর থানায় হাজির হব। আমার নতুন বাবার সঙ্গে দেখা করতে যাব! প্রয়োজনে মাকেও নিয়ে যাব। তাঁর স্বামীকে চিনতে পারেন কি না, দেখব।”
সেইসঙ্গে রেজিনগর থানায় হাজিরা দেওয়া নিয়ে হুমায়ুন কবির (Humayun Kabir) বলেন, রেজিনগর থানায় হাজিরা প্রসঙ্গেও সরব হন বিধায়ক। তিনি (Humayun Kabir) জানান, পরদিন রেজিনগর থানায় হাজিরা দিতে যাবেন, তবে একা নন। তাঁর দাবি, প্রায় এক হাজার সমর্থককে সঙ্গে নিয়ে থানায় যাবেন। হুমায়ুন বলেন, “আমাকে যদি গ্রেফতার করা হয়, তাহলে আমার সঙ্গে ওই এক হাজার লোকও যাবে।”


