Aaj India Desk, কলকাতা : ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সংকট গভীর হয়েছে। গতকাল রাতেই তৃনমূল ভবনের দখল নিয়ে দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকে আরোও প্রকাশ্যে নিয়ে আসে ঋতব্রতপন্থী তৃনমূল শিবির। এই পরিস্থিতিতে ঋতব্রতপন্থী গোষ্ঠীকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে তাদের কর্মকাণ্ডকে “সার্কাস” বলে মন্তব্য করেন তৃনমূল লোকসভা সাংসদ সৌগত রায় (Saugata Roy)।
বিদ্রোহী শিবিরের বৈঠক শেষ হওয়ার পর শুক্রবার সন্ধ্যায় ই এম বাইপাস সংলগ্ন মেট্রোপলিটনের তৃণমূল ভবনকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়। ঋতব্রত-পন্থীরা কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি-সহ পোস্টার সরিয়ে দলের চেয়ারপার্সন হিসেবে অরূপ রায়ের নাম-সহ নতুন পোস্টার টাঙানো হয়। পরে সেখানে পৌঁছন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তবে কার্যালয়ের মূল ফটকে তালা থাকায় তিনি ও তাঁর অনুগামীরা ভিতরে প্রবেশ করতে পারেননি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এবার সরব হয়েছেন সৌগত রায় (Saugata Roy)। এই কাজ সম্পূর্ণ বেআইনি বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে দেওয়ানি ও ফৌজদারি দুই ধরনের আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনা রয়েছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে সৌগত রায় অভিযোগ করেন, এর পেছনে বিজেপির ভূমিকা রয়েছে। “বিজেপির সুবিধার জন্য যা যা করতে হবে, সবই করেছে!” বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।
সৌগত রায়ের (Saugata Roy) অভিযোগ, বিদ্রোহী বিধায়কদের ওপর বিজেপির চাপ ও প্রলোভন কাজ করছে। তাঁর দাবি, বিরোধী দলগুলিকে ভাঙার জন্য বিজেপি তথাকথিত “অপারেশন লোটাস” কৌশল প্রয়োগ করছে। তিনি বিদ্রোহী নেতাদের উদ্দেশে বলেন, যদি তারা সত্যিই বিজেপির রাজনৈতিক অবস্থানকে সমর্থন করেন, তবে প্রকাশ্যে সেই দলে যোগ দেওয়া উচিত, দলের ভিতরে থেকে অস্থিরতা তৈরি করা যুক্তিযুক্ত নয়।
২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের আসন সংখ্যা নেমে ৮০-এ পৌঁছানোর পর থেকেই দলের সাংগঠনিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এর মধ্যে দলেরই খণ্ড খণ্ড হয়ে ভেঙে যাওয়া ও তীব্র বিবাদের জেরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। আগামী দিনে তৃনমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক অবস্থানের দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


