Aaj India Desk, কলকাতা : দেবরাজ চক্রবর্তী গ্রেপ্তারির পর তদন্তে বড় অগ্রগতি। তদন্তকারী দল (SIT)-এর নজরে এসেছে মোট ৩০ জন জনপ্রতিনিধির নাম। প্রথম দফায় চার জনকে নোটিশ পাঠিয়ে শনিবার দুপুর ১২টায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজির হতে বলা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, নির্ধারিত সময়ে হাজির না হলে দ্বিতীয় দফার নোটিশ পাঠানো হবে।
কাদের নামে পাঠানো হলো নোটিশ ?
তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধাননগর পুরসভার ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিনু মণ্ডল, ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মণীশ মুখার্জি, প্রাক্তন কাউন্সিলর গোপাল বাগুই এবং দেবরাজ চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী রতন বেরার নামে নোটিশ জারি করা হয়েছে।তবে চার জনই বাড়িতে না থাকায় গতকাল রাতে তাঁদের পরিবারের সদস্যদের হাতে নোটিশ তুলে দেওয়া হয়।
পাশাপাশি রাজারহাট-নিউটাউন এবং দক্ষিণ দমদম এলাকার একাধিক জনপ্রতিনিধির নামও তদন্তের আওতায় এসেছে। একে একে তাঁদের নামেও নোটিশ পাঠানো হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন পুলিশ আধিকারিকরা।
অভিযোগকারীর দাবি কী?
দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়েরকারী অভিজিৎ সাহা দাবি করেছেন, দেবরাজ তাঁর কাছে ৩০ লক্ষ টাকা দাবি করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, কাউন্সিলর মণীশ মুখার্জির মাধ্যমেই সেই অর্থ দেবরাজের কাছে পৌঁছায়। অভিজিৎ সাহার আরও দাবি, দেবরাজকে ৩০ লক্ষ টাকা দেওয়ার পাশাপাশি তিনি মণীশ মুখার্জিকেও ৫ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন।
তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট এলাকায় প্রোমোটিং সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে দেবরাজ চক্রবর্তীর নেটওয়ার্ক সক্রিয় ছিল। কোনও প্রোমোটিং প্রকল্প শুরু হলে সংশ্লিষ্ট প্রোমোটারদের কাছে অর্থ দাবির বার্তা পৌঁছে দেওয়া হতো। এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানতেই দেবরাজ ঘনিষ্ঠ এই চার নেতাকে তলব করেছে SIT।
অন্যদিকে তদন্তে উঠে এসেছে ‘ডিসি গ্লোবাল’ নামে একটি সংস্থার নামও। SIT-এর দাবি, ২০১৫ সালে গড়ে ওঠা এই নির্মাণ সংস্থার কোনও পৃথক কার্যালয় ছিল না। দেবরাজ চক্রবর্তীর বাড়ির ঠিকানাকেই অফিস হিসেবে দেখানো হয়েছিল। সংস্থার মালিক হিসেবে কাগজে-কলমে দেবরাজের বাবা তরুণ কুমার চক্রবর্তীর নাম থাকলেও, তদন্তকারীদের অভিযোগ, এই সংস্থার মাধ্যমে জমি-বাড়ির লেনদেন-সহ কোটি কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন হয়েছে। এই বিষয়টিকেও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।
উল্লেখ্য, এর আগে STF এর গোপন অভিযানে ঝাড়খণ্ড থেকে দেবরাজ চক্রবর্তীকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেই গ্রেপ্তারের পরই তদন্তের দায়িত্ব নিয়ে SIT আর্থিক লেনদেন, যোগাযোগ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা শুরু করেছে। তদন্তকারীদের মতে, জিজ্ঞাসাবাদ ও নথি যাচাইয়ের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


