28.5 C
Kolkata
Saturday, July 4, 2026
spot_img

একটি ভুলেই ধরা পড়েন দেবরাজ! কী সেই ‘ক্লু’ যা ‘কাল’ হল?

কলকাতা: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যত ‘ডান হাত’ দেবরাজ চক্রবর্তীর (Debraj Chakraborty) গ্রেপ্তারির পর প্রায় প্রতিদিনই নতুন নতুন তথ্য সামনে উঠে আসছে। চ্যাট ডিলিট, নারীঘটিত অভিযোগ, আবার বাগুইআটিতে কীভাবে নিজের সাম্রাজ্য পরিচালনা করতেন তিনি, এক এক করে সামনে উঠে আসছে। হাইকোর্টে আগাম জামিন খারিজ হয়ে যাওয়ার পরই প্রায় এক মাস ধরে কার্যত ‘চোর-পুলিশ’ খেলায় মেতেছিলেন বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র পারিষদ তথা রাজারহাট-গোপালপুরের প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সির স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তী (Debraj Chakraborty)।

ফোন বন্ধ করে উত্তরবঙ্গ থেকে শুরু করে একাধিক রাজ্যে আত্মগোপন করে ছিলেন তিনি। কখনও সাধারণ বাসে, কখনও ট্রেনের জেনারেল কামরায় যাতায়াত, আবার কখনও রাস্তার ধারের ছোট হোটেলে রাত কাটিয়ে পুলিশের নজর এড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যান। সমস্ত খরচই নগদে মিটিয়ে নিজের অবস্থান গোপন রাখার চেষ্টা করেছিলেন বলে তদন্তকারীদের দাবি।

কিন্তু দীর্ঘদিনের এই পরিকল্পনা ভেস্তে যায় চলতি সপ্তাহের শুরুতেই। তদন্তকারী সূত্রের দাবি, আত্মগোপনে থাকাকালীন নিজের ছেলের অন্নপ্রাশনের অনুষ্ঠান নিয়ে পরিকল্পনা করতে গিয়েই একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র রেখে ফেলেন দেবরাজ (Debraj Chakraborty)। অভিযোগ, অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য অতিথিদের একটি তালিকা তৈরি করা হচ্ছিল। সেই তথ্যই গোয়েন্দাদের হাতে পৌঁছে যায় এবং সেখান থেকেই শুরু হয় নতুন করে নজরদারি।

পুলিশ সূত্রে খবর, ওই সূত্র ধরে দেবরাজের (Debraj Chakraborty) সম্ভাব্য গতিবিধি বিশ্লেষণ করা হয়। প্রযুক্তিগত তথ্যের পাশাপাশি একাধিক মানব গোয়েন্দা সূত্রকে কাজে লাগিয়ে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হন তদন্তকারীরা। এরপর অভিযান চালিয়ে পুরুলিয়া থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে আয়বহির্ভূত সম্পত্তি, তোলাবাজি, আর্থিক অনিয়ম এবং বেনামি সম্পত্তি সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগের তদন্ত চলছে। এর আগেই কলকাতা হাই কোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন তিনি। তবে আদালত সেই আবেদন খারিজ করে তদন্তে সহযোগিতার নির্দেশ দেয়। এরপর থেকেই তিনি (Debraj Chakraborty) আত্মগোপনে ছিলেন বলে তদন্তকারীদের দাবি।

অন্যদিকে, একই মামলায় প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সি আগাম জামিন পান। চার মাসের শিশুসন্তানের বিষয়টি বিবেচনা করে আদালত তাঁকে রক্ষাকবচ দিলেও বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা এবং তদন্তে সহযোগিতার নির্দেশ দেয়। দেবরাজ (Debraj Chakraborty) গ্রেপ্তার হওয়ার পর তদন্তে নতুন গতি এসেছে বলে মনে করছে তদন্তকারী সংস্থা। তাঁর আর্থিক লেনদেন, সম্পত্তির উৎস এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের দাবি, জেরায় আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন