কলকাতা: বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই তৃণমূলের ‘শহীদ দিবস’ পালন নিয়ে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। আগামী ২ জুলাই থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত মধ্য কলকাতায় বেশ বড় অংশে ১৬৩ নম্বর ধারা জারি করেছে রাজ্য সরকার। অর্থাৎ এই ৬০ দিন ওই এলাকায় ৫ জনের বেশি জমায়েত, সভা, ধরনা, বিক্ষোভ কর্মসূচি বা মিছিল করা যাবে না। গতকাল, অর্থাৎ মঙ্গলবার কুণাল, দোলারা (Dola Sen) ফিতে নিয়ে ধর্মতলায় সভাস্থল মাপজোপ করতে গেলে পুলিশ তাঁদের সরিয়ে দেয়। দায়ের করা হয় মামলাও।
‘শহিদ দিবস’ উপলক্ষে ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে সভার অনুমতি চেয়েছিল কালীঘাট তৃণমূল এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের শিবির। তবে কলকাতা পুলিশ সাফ জানিয়ে দেয়, ধর্মতলার মতো ব্যস্ত এলাকায় রাস্তা আটকে রাজনৈতিক জমায়েতের অনুমতি দেওয়া হবে না। এই নিয়ে এবার কার্যত রাজ্য সরকারকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন (Dola Sen)।
বুধবার দুর্গাপুরে তিনি বলেন, ৩৩ বছরের প্রথা ভাঙবে না তৃণমূল। “৩৩ বছরের মত এবারও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে শহীদ তর্পণ হবে”, বলেন দোলা। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দোলা সেন (Dola Sen) বলেন, “আইন, বিচার ব্যবস্থা ও পুলিশ প্রশাসনের ওপর আমাদের পূর্ণ ভরসা আছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গত ৩৩ বছর ধরে যেমন ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচির নেতৃত্ব দিয়েছেন, তেমনই এবারও দেবেন। শহিদ তর্পণ অবশ্যই হবে।”
একইসঙ্গে তিনি জানান, এই ইস্যুতে যদি প্রশাসনিক বা আইনি বাধার মুখে পড়তে হয়, তাহলে তৃণমূল পিছিয়ে আসবে না। তাঁর (Dola Sen) কথায়, “আমাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। প্রয়োজন হলে থানায় যাব। কিন্তু কর্মসূচি থেকে সরে আসব না।”
ধর্মতলায় ৬০ দিনের জন্য ১৬৩ ধারা জারি নিয়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের আশঙ্কাও প্রকাশ করেন দোলা সেন। তাঁর (Dola Sen) অভিযোগ, সরকারের এই সিদ্ধান্ত ‘তুঘলকি শাসন’-এর উদাহরণ। তাঁর দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এমন নিষেধাজ্ঞা জারি করে সাধারণ মানুষের চলাচল ও দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত করা হচ্ছে। একুশে জুলাই উদযাপন নিয়ে দোলা সেনের এই চ্যালেঞ্জ রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ল, মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।


