কলকাতা: “ধরে রাখুন, এটাই হুমায়ুনের শেষ বক্তব্য”! সোমবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে হুমায়ুন কবিরের (Humayun Kabir) লাগামছাড়া ধর্মীয় উস্কানিমূলক মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সেইসঙ্গে তাঁর সাফ হুঁশিয়ারি ছিল, “এই ধরণের লোকদের শিক্ষা দেওয়ার সময় এসে গিয়েছে”। সেইসঙ্গে শুভেন্দু জানান, আগামী সপ্তাহেই তিনি মুর্শিদাবাদ যাচ্ছেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া হুঁশিয়ারির পরও হুমায়ুনের (Humayun Kabir) গলায় আক্রমণের ঝাঁজ অব্যাহত!
কি বললেন হুমায়ুন?
বিধানসভার বাইরে সাংবাদিকদের হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir) বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর হলেও তিনি বিচলিত নন। স্পষ্ট ভাষায় তাঁর মন্তব্য, “এফআইআর হোক বা যা-ই হোক, কুছ পরোয়া নেহি।” পাশাপাশি তিনি জানান, আগাম অন্তর্বর্তী জামিনের আবেদন করারও কোনও পরিকল্পনা তাঁর নেই।
পুলিশের ভূমিকা প্রসঙ্গে হুমায়ুন বলেন, “পুলিশ বলছে, প্রশাসনের নির্দেশ মেনেই কাজ করতে হচ্ছে। আমার জন্য আলাদা কিছু করা সম্ভব নয়।” একই সঙ্গে তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) অভিযোগেরও জবাব দেন। তাঁর দাবি, ছেলেকে নির্বাচনে জেতাতে বা মুসলিম ভোট একজোট করতেই তিনি ওই মন্তব্য করেছেন, এমন অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই।
তাঁর (Humayun Kabir) কথায়, “ছেলেকে জেতাতে আমি রাজনৈতিক বক্তব্য রাখতেই পারি। আর মুসলিম ভোট একত্রিত করার দরকার হবে না। ভোটের লড়াইয়ে দেখা যাবে, কারা কাদের ভোট দেয়। আমি তো প্রশাসন বা মুখ্যমন্ত্রীর নাম করে কিছু বলিনি, নবাগত বিজেপিদের নিয়েই মন্তব্য করেছি।”
“আমি ক্ষমা চাইব না”
এখানেই শেষ নয়। হুমায়ুন কবীর আরও বলেন, “FIR তো হয়েছেই। বহরমপুরে হয়েছে, ইংলিশবাজারে হয়েছে। শক্তিপুর, রেজিনগরে প্রশাসন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা করেছে। আইন আইনের পথেই চলেছে।” তাঁর দাবি, প্রশাসন তাদের দায়িত্ব পালন করছে, আর তিনিও আইনি লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত।
একইসঙ্গে তিনি বলেন, বিজেপি চাইলে তাঁর বিরুদ্ধে বিধানসভায় নিন্দা প্রস্তাব আনতে পারে, এমনকি তাঁকে সাসপেন্ড করার উদ্যোগও নিতে পারে। “স্পিকারের সেই ক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু তাই বলে আমি ক্ষমা চাইব না,” স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি (Humayun Kabir)।


