Aaj India Desk, কলকাতা : রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর জাতীয় সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার কলকাতার রবীন্দ্র সদনে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (RSS)-এর এক অনুষ্ঠানে তিনি দাবি করেন, সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার করতে ইতিমধ্যেই বিএসএফকে প্রয়োজনীয় জমি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, অনুপ্রবেশ রুখতে সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে ‘হোল্ডিং স্টেশন’ তৈরির কথাও ঘোষণা করেন তিনি।
সীমান্ত সুরক্ষায় সরকারের পদক্ষেপ
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ ও অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য বিএসএফের হাতে প্রয়োজনীয় জমি ইতিমধ্যেই তুলে দেওয়া হয়েছে। আরও জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়াও চলছে বলে জানান তিনি।
অনুপ্রবেশ রুখতে ‘হোল্ডিং স্টেশন’
সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানের কথাও জানান শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে ‘হোল্ডিং স্টেশন’ তৈরি করা হয়েছে, যেখানে চিহ্নিত অনুপ্রবেশকারীদের রাখা হবে। পরে তাঁদের যে দেশ বা অঞ্চল থেকে এসেছেন, সেখানে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে বলেও দাবি করেন তিনি। তিনি স্পষ্ট বলেন, “যারা এই খুলে থাকা সীমান্ত দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করে ল্যান্ড জিহাদ, লাভ জিহাদ, ধর্ম পরিবর্তন এবং নানা ধরনের জিহাদি কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ভারতীয় সংস্কৃতি, সনাতন সংস্কৃতি ও রাষ্ট্রবাদকে নষ্ট করার চেষ্টা করছে বা করেছে, তাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। এই সব অনুপ্রবেশকারীদের হোল্ডিং স্টেশনে রেখে সরাসরি তারা যেখান থেকে এসেছিল, সেখানেই ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি আমরা।”
অনুপ্রবেশকারী ও শরণার্থীর মধ্যে পার্থক্য টেনে মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA)-এর প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে যারা ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন, তাঁরা অনুপ্রবেশকারী নন; বরং CAA-এর আওতায় তাঁরা শরণার্থী হিসেবে বিবেচিত হবেন।
RSS এর মঞ্চ থেকে সীমান্ত সুরক্ষা, অনুপ্রবেশ এবং CAA নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে ‘হোল্ডিং স্টেশন’ তৈরির ঘোষণা এবং জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে সরকারের অবস্থান আগামী দিনে রাজনৈতিক বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।


