Aaj India Desk, কলকাতা : বুধবার দুপুরে কলকাতার তারাতলায় (Taratala Incident) নির্মীয়মাণ একটি বহুতল গোডাউনের ছাদ ও লোহার কাঠামো ধসে পড়ে আটকা পড়েন বহু শ্রমিক। ঘটনার ভয়াবহতায় দ্রুত উদ্ধার কাজ শুরু করা হয়। তবে এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে অন্তত ১৮ জন আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে সেনা বাহিনীর তৎপরতায় ২২ জন শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া আহতদের এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধার করা হয়েছে ৩ জন মৃত শ্রমিকদের দেহ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মৃত ও আহতদের পরিচয় প্রকাশ
প্রাথমিক তালিকা অনুযায়ী তারাতলা দুর্ঘটনায় (Taratala Incident) মৃতদের মধ্যে রয়েছেন ৪০ বছরের রোহিত চৌধুরী, ৩০ বছরের কৃষ্ণা চৌধুরী এবং বছর তিরিশের এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি। আহতদের মধ্যে রয়েছেন দুর্বাসা মল্লান (৫৬), মণি চাঁদ কুমার (২২), সাহিদ কুমার (২৬), রাজেশ রুইদাস (২৫), বিশ্ব প্রকাশ (২৮), বোদান মুন্ডা (২৮), রাজেন্দ্র রাও (৫৫) এবং রামপ্রসাদ চৌধুরী (২১)।
কেন ভেঙে পড়ল পাঁচতলা কাঠামো?
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, তারাতলার দুর্ঘটনাস্থলের (Taratala Incident) জমিটি কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষের মালিকানাধীন। একটি বড় চা প্রস্তুতকারক সংস্থা দীর্ঘমেয়াদি লিজে জমিটি নিয়ে সেখানে একটি বিশাল চা গুদাম নির্মাণ করছিল। প্রায় দেড় বছর ধরে চলা নির্মাণকাজের অংশ হিসেবে পাঁচতলা কাঠামোটি তৈরি হচ্ছিল।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, বুধবার সকাল থেকেই মূল লোহার কাঠামোটি অস্বাভাবিকভাবে দুলছিল। কাঠামোর স্থায়িত্ব নিয়ে সন্দেহ দেখা দেওয়ায় কয়েকজন শ্রমিক দুপুরে সেটি পরীক্ষা করতে ছাদের নিচে জড়ো হন। সেই সময়ই হঠাৎ লোহার বিম ও ছাদ ভেঙে পড়ে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বিপুল পরিমাণ লোহার কাঠামো শ্রমিকদের উপর ধসে পড়ে।
নির্মাণ ত্রুটির ইঙ্গিত, কড়া নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর
ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, পুরসভার ইঞ্জিনিয়ারদের প্রাথমিক রিপোর্টে নির্মাণ পরিকল্পনায় গুরুতর ত্রুটির ইঙ্গিত মিলেছে। সেই প্রেক্ষিতে আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত কলকাতা পুরসভা এলাকায় সমস্ত বাণিজ্যিক ও সন্দেহজনক বহুতল নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে চলবে নির্মাণস্থলগুলির নিরাপত্তা ও কাঠামোগত স্থায়িত্বের পূর্ণাঙ্গ অডিট।
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে প্রশাসনের কাছে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা শ্রমিকদের দ্রুত উদ্ধার করা। এখনও পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারী।


