Aaj India Desk, কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় রাজ্য বাজেট নিয়ে আলোচনার মাঝেই বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিট (BGBS)-এর আর্থিক লেনদেন নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে BGBS আয়োজনের নামে ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান চেম্বার্স অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (FICCI)-কে ৩২৪.৭৩ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। এই অর্থ কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় প্রদান করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
বিধানসভায় নথি প্রদর্শন
মঙ্গলবার বাজেটের উপর আলোচনায় অংশ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় একটি নথি প্রদর্শন করেন। তাঁর দাবি, ওই নথিতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষর রয়েছে।
বিরোধী বেঞ্চের উদ্দেশে তিনি বলেন, “দেখুন আপনাদের নেত্রী কী করেছেন। বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিটের নামে ৩২৪.৭৩ কোটি টাকা FICCI-কে দেওয়া হয়েছে।”
নিয়োগ দুর্নীতির প্রসঙ্গও উত্থাপন
বাজেট বিতর্কে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, নতুন বিজেপি সরকারের বাজেটে সরকারি নিয়োগ ও শিল্পক্ষেত্রে দুর্নীতি রোধে একাধিক সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে স্কুল, পুরসভা এবং বিভিন্ন সরকারি দফতরে নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। বিশেষ করে স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) নিয়োগ দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি দাবি করেন, সেই ঘটনার ফলে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের গ্রেফতারিও হয়েছিল।
‘বরফখণ্ডের চূড়া মাত্র’
বিধানসভায় BGBS প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এটা শুধু বরফখণ্ডের চূড়া মাত্র।” এর পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিট আয়োজনের ক্ষেত্রে আরও আর্থিক অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে।কয়েক দিন আগেও শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছিলেন, BGBS আয়োজন করতে গিয়ে মোট ৬৩৫ কোটি টাকা একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থাকে দেওয়া হয়েছিল। সেই বিষয়েও তদন্ত হবে বলে তিনি জানিয়েছিলেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্ত করা হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে দায়িত্ব দেওয়া হবে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন। তাঁর বক্তব্য, তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। তবে কোন ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থাকে অর্থ দেওয়া হয়েছিল বা তদন্তের আওতায় কারা আসতে পারেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর এই অভিযোগের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। ফলে BGBS সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেন এবং সম্ভাব্য তদন্ত আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


