Aaj India Desk, কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ফের নতুনভাবে গঠিত হচ্ছে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি (PAC)। বিধানসভার একটি কমিটির সদস্যপদ নিয়ে সাধারণত এত আলোচনা হয় না। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। কারণ, লড়াইটা এবার বিরোধী বনাম শাসকের নয়, বরং তৃণমূলেরই দুই পৃথক শিবিরের। রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর গুরুত্বপূর্ণ এই কমিটি গঠনের বিজ্ঞপ্তি জারি হতেই সক্রিয় হয়ে উঠেছে তৃণমূল কংগ্রেস। পিএসি-র সদস্যপদ দখলকে কেন্দ্র করে এবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটপন্থী শিবির আলাদা ভাবে মনোনয়ন দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, আর সেই কারণেই পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি বা PAC-র নির্বাচন ঘিরে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ।
কেন গুরুত্বপূর্ণ পিএসি?
নতুন সরকার গঠনের পর বিধানসভায় বিভিন্ন স্ট্যান্ডিং ও হাউস কমিটি গঠন করা সংসদীয় প্রক্রিয়ার অংশ। সাধারণত ১১টি স্ট্যান্ডিং কমিটি এবং প্রায় ২০টি হাউস কমিটি থাকে। এই হাউস কমিটিগুলির মধ্যে বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির। সরকারি ব্যয়, হিসাব এবং আর্থিক জবাবদিহি খতিয়ে দেখার ক্ষেত্রে PAC-র ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। চেয়ারম্যান-সহ এই কমিটিতে সর্বাধিক ২০ জন সদস্য থাকতে পারেন।
সদস্যপদ নিয়েই এবার মূল লড়াই
বিধানসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, পিএসি-র সদস্যপদের জন্য দুই তৃণমূল শিবিরই নিজেদের প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দিচ্ছে। যদি জমা পড়া মনোনয়নের সংখ্যা নির্ধারিত ২০টি আসনের বেশি হয়, তাহলে নির্বাচন অনিবার্য হয়ে উঠবে। সে ক্ষেত্রে আগামী ৫ জুলাই দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে পারে।
পিএসি ছাড়াও আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ হাউস কমিটিতেও প্রয়োজনে নির্বাচন হতে পারে। সেগুলির মধ্যে রয়েছে কমিটি অন পাবলিক আন্ডারটেকিংস, কমিটি অন এস্টিমেটস, কমিটি অন লোকাল ফান্ড অ্যাকাউন্টস।
তবে বিধানসভার অন্দরে এবার প্রচলিত শাসক-বিরোধী সমীকরণের বাইরে তৃণমূলের দুই শিবিরের শক্তি পরীক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে উঠবে পিএসি নির্বাচন। তাই দুই পক্ষের মধ্যে এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের ফল কী হয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


