Aaj India Desk, কলকাতা : সোমবার তৃনমূল কংগ্রেসের শীর্ষপদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো খোদ দলের প্রতিষ্ঠাতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। নোভোটেলে অনুষ্ঠিত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের বৈঠকের পর এই বিস্ফোরক তথ্য সামনে আসতেই তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে দাবি করেন, গোটা প্রক্রিয়াটি বেআইনি এবং দলীয় সংবিধান বহির্ভূত। পাশাপাশি তিনি ঋতব্রতদের (Ritabrata Banerjee) বিরুদ্ধে দলবিরোধী কার্যকলাপ এবং বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগও তোলেন।
‘মমতাকে সরানো যায় না’
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কুণাল ঘোষ বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দল থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি শুনে তাঁরা হাসছেন। তাঁর কথায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনও পদবির উপর নির্ভরশীল নন, তিনি মানুষের হৃদয়ের নেতা। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যিনি নিজেই অতীতে দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন, তিনি কীভাবে অন্য কাউকে দল থেকে সরানোর দাবি করতে পারেন।
“ক্ষমতার লোভে মমতার পিঠে ছুরি”
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee) এবং তাঁর ঘনিষ্ঠদের নিশানা করে কুণাল বলেন, ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই একাংশের মধ্যে ‘বিশ্বাসঘাতকতার রাজনীতি’ শুরু হয়েছে। তাঁর স্পষ্ট দাবি, ক্ষমতার লোভে কিছু নেতা দলীয় কর্মীদের পাশে না দাঁড়িয়ে অন্য রাজনৈতিক শক্তির স্বার্থে কাজ করছেন এবং ক্ষমতার লোভে মমতার পিঠে ছুরি বসাচ্ছেন। কুণাল আরও বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁর এবং তাঁর সহকর্মীদের সম্পর্ক আদর্শগত। কোনও পাঁচতারা হোটেলের বৈঠক বা সাংগঠনিক দাবিতে সেই অবস্থান বদলাবে না।
অর্থ ও সংগঠন নিয়ে প্রশ্ন
বিদ্রোহী শিবিরের দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ritabrata Banerjee) অতীত ভূমিকার প্রসঙ্গও টানেন কুণাল ঘোষ। তিনি দাবি করেন, যে দলীয় আর্থিক কাঠামো নিয়ে এখন ঋতব্রত প্রশ্ন তুলছেন, অতীতে সেই সংগঠনের হয়ে ওই আর্থিক তহবিলের টাকা প্রচারে খরচ করে নিজেই নির্বাচন লড়েছেন ঋতব্রত। ফলে তাঁর বর্তমান অবস্থানের সঙ্গে অতীতের ভূমিকার অসঙ্গতি রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। নোভোটেলে আয়োজিত বৈঠক নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কুণাল। তাঁর দাবি, এই ধরনের কর্মকাণ্ডের পিছনে অন্য রাজনৈতিক শক্তি বা আর্থিক মদত রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
তবে রাজনীতিতে অসম্ভব বলে কিছু নেই সেটা আবারও প্রমাণ করল নোভোটেলের বৈঠক। যে দল একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামের সমার্থক ছিল, সেই দলেরই একাংশ এখন তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নিয়েই নতুন সমীকরণ কষছে। তবে শেষ পর্যন্ত পাঁচতারা হোটেলের বৈঠকের সিদ্ধান্ত বেশি ওজন পাবে, নাকি মাঠে-ময়দানে কর্মীদের সমর্থন সেই উত্তরই খুঁজছে বাংলার রাজনীতি।


