Aaj India Desk, কলকাতা : একদিকে কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির (Industrial Investment) চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে বাংলার ঋণের পরিমাণ নিয়ে চিন্তা। এই প্রেক্ষাপটে রাজ্যের অর্থনীতিকে নতুন গতি দেওয়ার লক্ষ্যেই শিল্প, বাণিজ্য এবং প্রযুক্তি খাতে একগুচ্ছ নীতিগত পরিবর্তনের রূপরেখা তুলে ধরল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সিঙ্গল-উইন্ডো অনুমোদন ব্যবস্থা, ২৪×৭ ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ সহ বাজেটে ঘোষিত একাধিক পদক্ষেপের মাধ্যমে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির বার্তা দিলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত।
বড় বিনিয়োগ টানতে নতুন পদক্ষেপ
রাজ্যে ১০০ কোটি টাকা বা তার বেশি বিনিয়োগের (Industrial Investment) ক্ষেত্রে অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জেলা পরিষদ বা পঞ্চায়েত স্তরে পৃথক অনুমোদনের পরিবর্তে রাজ্য সরকারের এক-জানালা ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সব ছাড়পত্র প্রদান করা হবে। সরকারের দাবি, এতে শিল্প স্থাপনের সময় ও প্রশাসনিক জটিলতা কমবে।
বৃহৎ বিনিয়োগের পথে অন্যতম বাধা হিসেবে বিবেচিত আর্বান ল্যান্ড সিলিং আইন পুনর্বিবেচনারও ঘোষণা করা হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, শহরাঞ্চলে জমির বাণিজ্যিক ব্যবহার এবং নতুন শিল্প বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে এবং ব্যবসার অতিরিক্ত ব্যয় কমাতে বেআইনি অর্থ আদায় ও সিন্ডিকেট সংস্কৃতির বিরুদ্ধে নতুন আইন আনার কথাও বলা হয়েছে।
কলকাতা-সহ বড় শহরে ২৪×৭ ব্যবসার সুযোগ
ব্যবসায়িক পরিকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পশ্চিমবঙ্গ শপস অ্যান্ড এস্টাবলিশমেন্ট আইন সংশোধনের প্রস্তাব আনা হয়েছে। এর ফলে দোকান, রেস্তোরাঁ, অফিস, লজিস্টিক এবং হসপিটালিটি প্রতিষ্ঠানকে চব্বিশ ঘণ্টা খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হতে পারে। প্রথম পর্যায়ে কলকাতা ও অন্যান্য বড় শহরে পরীক্ষামূলকভাবে এই ব্যবস্থা চালু হবে।
স্টার্ট-আপে ১০০ কোটি টাকার তহবিল
আগামী তিন মাসের মধ্যে নতুন স্টার্ট-আপ নীতি আনার ঘোষণা করা হয়েছে। এর অধীনে ৪০ কোটি টাকার ইনকিউবেশন ফান্ড এবং ৬০ কোটি টাকার ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড গঠন করা হবে। সরকারের মতে, নতুন উদ্যোক্তা এবং প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্যোগগুলিকে সহায়তা দেওয়াই এর লক্ষ্য। অন্যদিকে রাজ্যে উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প গড়ে তুলতে ৫০ কোটি টাকার ‘চিফ মিনিস্টারস সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ট্যালেন্ট অ্যাট্রাকশন ফান্ড’ গঠন করা হবে।
কলকাতা স্টক এক্সচেঞ্জ পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগ
দীর্ঘদিন ধরে কার্যত নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকা কলকাতা স্টক এক্সচেঞ্জকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে সম্ভাবনাময় রাজ্যায়ত্ত সংস্থাগুলিকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানানো হয়েছে।
কোনও রাজ্যে বিনিয়োগের (Industrial Investment) সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় শিল্পপতিরা সাধারণত জমির সহজলভ্যতা, প্রশাসনিক অনুমোদনের গতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ব্যবসা পরিচালনার খরচের মতো বিষয়গুলিকে গুরুত্ব দেন। বাজেটে ঘোষিত পদক্ষেপগুলি সেই সব ক্ষেত্রেই কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একই সঙ্গে স্টার্ট-আপ, ডিপ-টেক এবং প্রযুক্তিভিত্তিক শিল্পে জোর দেওয়ার ফলে নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তা, গবেষক এবং দক্ষ কর্মীদের জন্যও সুযোগ বাড়তে পারে। তবে ঘোষিত নীতিগুলি বাস্তবে কত দ্রুত কার্যকর হয় এবং তার সুফল সাধারণ মানুষের কাছে কতটা পৌঁছায়, সেটাই আগামী দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।


