Aaj India Desk, হাওড়া: হাওড়ার বাগনানে বিজেপি (BJP) কর্মী প্রশান্ত দে (Prasanta Dey)-র মৃত্যুর ঘটনায় এবার তদন্তের দায়িত্ব পেল সিআইডি (CID)। শুক্রবার নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর অভিযোগ, এই ঘটনার নেপথ্যে তৃণমূল (TMC)-এর কর্মীরা জড়িত। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করবে সিআইডি। পাশাপাশি নিহত প্রশান্ত দে-র পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাসও দেন তিনি। রাজ্য সরকারের তরফে ৪ লক্ষ টাকা এবং মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে আরও ৫ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে। ফলে মোট ৯ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তা পাবে পরিবারটি।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বাগনানের উপপ্রধান মফিজুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি প্রকল্পে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ উঠছিল। সেই অভিযোগে ক্ষুব্ধ কিছু মানুষ তাঁর বাড়িতে গিয়ে নিজেদের টাকা ফেরতের দাবি জানান। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, তখন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য পুলিশের অপেক্ষা করা উচিত ছিল। কিন্তু অভিযোগ, তার পরিবর্তে মফিজুল ইসলাম খান নিজের বাড়ির লোকজন ও অনুগামীদের নিয়ে বিক্ষুব্ধ মানুষের উপর হামলা চালান। সেই সংঘর্ষেই গুরুতর আহত হন প্রশান্ত দে। পরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।
এই ঘটনায় প্রশান্ত দে-র স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মূল অভিযুক্ত-সহ মোট আটজনকে গ্রেফতার করেছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতে কড়া শাস্তির আবেদন জানাবে রাজ্য সরকার। প্রয়োজনে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিও তোলা হবে। বুধবার গভীর রাতে বাগনানের সন্তোষপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, ঘটনার পর অভিযুক্তদের মধ্যে একজন ফোন করে প্রশান্ত দে-র পরিবারের সদস্যদের জানায় যে, “মার্ডার করে দিয়েছি, এসে তুলে নিয়ে যান”। এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই এলাকাজুড়ে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
প্রশান্ত দে বাগনান ৫ নম্বর মণ্ডলের ১৯৭ নম্বর বুথের সহ-সভাপতি ছিলেন। বিজেপির দাবি, একটি অনুষ্ঠান উপলক্ষে অন্য কর্মীদের সঙ্গে সেখানে গিয়েছিলেন তিনি। সেই সময় লাঠি ও লোহার রড নিয়ে একদল দুষ্কৃতী হামলা চালায়। ওই হামলায় প্রাণ হারান প্রশান্ত দে। এছাড়া আরও তিন বিজেপি কর্মী গুরুতর জখম হন। প্রথমে তাঁদের বাগনান গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে সেখানেই তাঁদের চিকিৎসা চলছে। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় চাপা উত্তেজনা রয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা-সহ সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থা।


