Aaj India Desk, দার্জিলিং : ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ধাক্কার পর নতুন সাংগঠনিক দায়িত্বের তালিকা প্রকাশ করে তৃনমূল। তবে সেই ভরসার তালিকায় থাকা প্রদীপ ও রবীন্দ্রনাথ ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তাঁদের পদে ইস্তফা দেন। সেই ধাক্কা এখনও সামলাতে পারেনি তৃণমূল কংগ্রেস। জেলার পর জেলা হাতছাড়া হওয়ার পর এবার দলের সামনে নতুন প্রশ্ন তুলে দিলেন গৌতম দেব (Gautam Deb)। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি ইতিমধ্যেই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজের ইস্তফার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। শুক্রবার প্রশাসনের কাছে তিনি ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছেন।
সম্প্রতি গৌতম দেবকে তৃণমূলের দার্জিলিং জেলা সাংগঠনিক কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব চাইছে তিনি সাংগঠনিক কাজে আরও বেশি সময় দিন। সেই কারণেই মেয়র পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত বলে দলীয় সূত্রের দাবি। তবে বুধবার নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই তাঁর ইস্তফা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল। এরপর বৃহস্পতিবার মেয়র-পরিষদের বৈঠকে তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন।
বৈঠকে গৌতম দেব (Gautam Deb) ইস্তফার ইচ্ছা প্রকাশ করার পর মেয়র-পরিষদের সদস্যদের মধ্যে মতভেদ দেখা দেয়। একাংশ তাঁর সিদ্ধান্তকে সমর্থন করলেও অন্য অংশ আপত্তি তোলে। কারণ, বর্তমান পুরবোর্ডের মেয়াদ এখনও এক বছরেরও বেশি বাকি। ফলে এখনই নেতৃত্ব পরিবর্তনের পক্ষে ছিলেন না অনেকেই। তবে গৌতম দেব নিজের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের দায়িত্ব পান গৌতম দেব (Gautam Deb)। পরে তিনি রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রীও ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে উত্তরবঙ্গের তৃণমূল রাজনীতির অন্যতম মুখ হিসেবে পরিচিত তিনি। ২০২২ সালের পুরভোটে তাঁর নেতৃত্বেই শিলিগুড়ি পুরনিগম দখল করেছিল তৃণমূল। তবে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় তৃণমূল কার্যত বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে দল উল্লেখযোগ্য সাফল্য পায়নি। শিলিগুড়ি কেন্দ্র থেকেও পরাজিত হন গৌতম দেব। এর আগে ২০২১ সালেও ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি কেন্দ্রে তিনি হেরেছিলেন। ফলে পরপর দুই বিধানসভা নির্বাচনে ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ধাক্কার মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে।
তবে পুরবোর্ডের মেয়াদ বহাল থাকায় প্রশাসনিকভাবে পুরনিগমের কাজকর্ম স্বাভাবিকভাবেই চলবে। গৌতম দেবের ইস্তফার পর নতুন নেতৃত্ব কীভাবে দায়িত্ব সামলায়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


