Aaj India Desk, কলকাতা : রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর সংগঠনকে নতুন করে সাজাতে সব জেলা কমিটি ভেঙে দিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। সেই প্রক্রিয়ার মধ্যেই পূর্ব বর্ধমানের জেলা সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দিলেন রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় (Rabindranath Chatterjee)। এর আগে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন খড়্গপুর সদরের প্রাক্তন বিধায়ক প্রদীপ সরকার। একদিনের ব্যবধানে দুই নেতার এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে।
ফেসবুকে দায়িত্বের খবর পেয়ে পদত্যাগ
গত শনিবার তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য নতুন জেলা সভাপতিদের নাম ঘোষণা করেন। সেই তালিকায় পূর্ব বর্ধমান জেলা সভাপতির দায়িত্ব ফের দেওয়া হয় রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়কে (Rabindranath Chatterjee)। বুধবার তিনি ই-মেইলে রাজ্য সভাপতিকে চিঠি পাঠিয়ে জানান, ফেসবুক মারফত তিনি দায়িত্ব পাওয়ার খবর জানতে পেরেছেন। তবে তিনি ওই দায়িত্ব পালন করতে ইচ্ছুক নন। তাই তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার আবেদন জানান।
চিঠিতে তিনি লেখেন, “আমি ফেসবুকের মাধ্যমে জানতে পেরেছি যে আমাকে পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমি এই পদে থাকতে ইচ্ছুক নই। এই চিঠিটিকেই আমার পদত্যাগপত্র হিসেবে গ্রহণ করার অনুরোধ করছি।” তবে পদত্যাগের নির্দিষ্ট কারণ তিনি চিঠিতে উল্লেখ করেননি।
প্রদীপ সরকারেরও দায়িত্ব গ্রহণে অনীহা
এর আগে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল খড়্গপুর সদরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা কাউন্সিলর প্রদীপ সরকারকে। কিন্তু দায়িত্ব ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তিনি তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন। বুধবার রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে চিঠি দিয়ে প্রদীপ জানান, ব্যক্তিগত কারণে তিনি দলীয় দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চাইছেন। তবে কাউন্সিলর পদে তিনি বহাল রয়েছেন।
প্রদীপ বলেন, “বর্তমানে আমি সাধারণ নাগরিক। একজন কাউন্সিলর হিসাবেই রইলাম। মানুষের পরিষেবা দিতে থাকব।”
বিজেপিতে যোগদানের জল্পনা
বিধানসভা ও লোকসভায় দলের ভাঙনের পর মমতা নতুন করে সংগঠনের দায়িত্ব ও পদবিন্যাস করেছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই নিজের ভরসার পাত্রদেরই তিনি সেই তালিকায় স্থান দিয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পর পর দুই নেতার এইভাবে পদত্যাগ ফের মমতার দুর্গে আঘাত হেনেছে।
খড়্গপুর সদর কেন্দ্র থেকে একসময় তৃণমূলের বিধায়ক ছিলেন প্রদীপ সরকার। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও তিনি তৃণমূলের প্রার্থী ছিলেন। তবে বিজেপির দিলীপ ঘোষের কাছে পরাজিত হন।দলীয় দায়িত্ব প্রত্যাখ্যানের পর তাঁকে ঘিরে বিজেপিতে যোগদানের জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনও মন্তব্য করেননি। তাঁর বক্তব্য, এখনই তিনি কোন দলে যাবেন তা বলার সময় আসেনি। অন্যদিকে রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ও (Rabindranath Chatterjee) এই নিয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি। এই আবহে দলবদলের জল্পনা ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।


