Aaj India Desk, কলকাতা: কলকাতা হাইকোর্ট (Kolkata High Court)-এর রায়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee)-ই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা (Opposition Leader) হিসেবে বহাল। বৃহস্পতিবার এই মামলায় রায় দিয়ে আদালত জানিয়ে দেয়, বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বোস যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তাতে আদালত হস্তক্ষেপ করবে না। ফলে বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রতের স্বীকৃতিই বজায় থাকল। এই রায়ে রাজনৈতিকভাবে বড় ধাক্কা খেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের অন্দরে ভাঙন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার নেতৃত্বে একটি আলাদা গোষ্ঠী তৈরি হয়। তাঁদের দাবি, ৬৫ জন বিধায়ক তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন। সেই দাবি মেনে স্পিকার রথীন্দ্র বোস ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেন। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে বেছে নেয়। এরপরই বিষয়টি আদালতে গড়ায়।
মামলার শুনানিতে আদালত স্পিকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলে। বিচারপতি জানতে চান, প্রথম চিঠি পাওয়ার পর কেন কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, অথচ দ্বিতীয় চিঠি আসার পর দ্রুত পদক্ষেপ করা হয়। প্রথম চিঠির সত্যতা যাচাই করা হয়েছিল কি না এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষকে নিজেদের বক্তব্য জানানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। শুনানিতে সই জালিয়াতির অভিযোগ, দলীয় বৈঠকের সিদ্ধান্ত এবং বহিষ্কারের বিষয়ও উঠে আসে। তবে আদালত স্পষ্ট জানায়, শুধু অভিযোগ দায়ের হলেই তা প্রমাণ হয়ে যায় না।
সব দিক বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত আদালত স্পিকারের সিদ্ধান্তই বহাল রাখে। ফলে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি পেলেন। এদিকে রায়ের পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, তাঁরাই প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস পরিষদীয় দল। তাঁর বক্তব্য, দলের প্রায় ৯৮ শতাংশ বিধায়ক তাঁদের পক্ষেই রয়েছেন। পাশাপাশি তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামীদের উদ্দেশে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, প্রয়োজনে বিধানসভায় ফ্লোর টেস্ট বা আস্থা ভোট হোক। তাতেই স্পষ্ট হয়ে যাবে, কার সমর্থনে কতজন বিধায়ক রয়েছেন।


