Aaj India Desk, কলকাতা : পালানোর শত চেষ্টা করা হলেও বাধ সাধলো ফোনের সিম। সিমের লোকেশন থেকেই কলকাতা পুরসভার ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষকে (Sushanta Ghosh) বুধবার পুরী থেকে গ্রেপ্তার করলো কলকাতা পুলিশের গুন্ডা দমন শাখা। তোলাবাজি, দুর্নীতি, কাটমানি আদায় এবং হুমকি দেওয়ার মতো একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে আটক করা হয়েছে। ওড়িশা পুলিশ ও কলকাতা পুলিশের যৌথ অভিযানে এই গ্রেপ্তারি হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
সিম কার্ডের সূত্রে লোকেশন ট্র্যাক
তদন্তকারীদের দাবি, পুরীতে থাকাকালীন সুশান্ত ঘোষ (Sushanta Ghosh) একটি অন্য সিম কার্ড ব্যবহার করছিলেন। সেই সিমের সূত্র ধরেই তাঁর অবস্থান ট্র্যাক করা হয়। এরপর যৌথ অভিযানে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এখন তাঁকে কলকাতায় নিয়ে আসা হচ্ছে।
হকারদের অভিযোগে শুরু তদন্ত
এর আগে পূর্ব কলকাতার আনন্দপুর থানায় একটি বাজারের হকার্স কমিটির অন্তত ১৩০ জন সদস্য তাঁর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। তাদের অভিযোগ ছিল, বাজারে দোকান বরাদ্দ ও নির্মাণের নামে সুশান্ত ঘোষ এবং তাঁর কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আদায় করেছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, গত কয়েক বছরে প্রায় তিন কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। দোকানের আকার অনুযায়ী নির্দিষ্ট হারে টাকা নেওয়া হতো।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাজারে নতুন করে তৈরি হওয়া একাধিক দোকানও বিক্রি করা হয়েছিল। প্রতিটি দোকানের জন্য প্রায় ৬ লক্ষ টাকা করে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাঁদের। ২০২২ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে টিন ও শাটার লাগিয়ে তৈরি হওয়া দোকানগুলির বরাদ্দ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী ঠিক করত কে কত বড় দোকান পাবেন এবং সেই অনুযায়ী অর্থ দিতে বাধ্য করা হতো ব্যবসায়ীদের।
অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই এলাকায় সুশান্ত ঘোষের (Sushanta Ghosh) দেখা মিলছিল না। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। এর মধ্যেই ওড়িশা সীমান্ত এলাকা থেকে তাঁর গাড়ির চালককে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। তবে এবার সুশান্ত ঘোষকে কলকাতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। অভিযোগের আর্থিক লেনদেন, দোকান বরাদ্দ প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট অন্যদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


